খেলা-ধুলা

মেসির গোল, রোনালদোর লাল কার্ড, তবুও….

গোল পেলেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত গোলের পর লাল কার্ড দেখলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। আত্মঘাতী গোল, হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি; রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ফুটবল বিশ্ব দেখলো আরেকটি রোমাঞ্চকর ক্লাসিকো। কাম্প নউয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আরেকটি শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ।

অথচ রোববার রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখে মনেই হয়নি এতটা রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে দ্বিতীয়ার্ধে। পিএসজিতে চলে যাওয়া নেইমারকে ছাড়া প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামে বার্সেলোনা। রিয়ালের প্রথম একাদশে ছিলেন না রোনালদোও।

দশম মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ লুইস সুয়ারেস নষ্ট করেন রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস বরাবর মেরে। ২৫তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়। বলার মতো তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রিয়াল।

প্রথমার্ধেই হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো, গ্যারেথ বেল, দানি কারভাহাল, মেসি ও জেরার্দ পিকে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জমে উঠে ম্যাচ। আর পঞ্চম মিনিটেই পিকের ভুলে এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর ক্রস তেমন কোনো চাপ ছাড়াই বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজের জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার। বাকি সময়টায়ও খেলতে পারেননি নিজের মান অনুযায়ী।

একটু পরই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ নষ্ট করে বার্সেলোনা। ডান দিকথেকে জর্দি আলবার নিচু ক্রসে পা লাগাতে পারেননি মেসি। বল পেয়ে বাঁ থেকে নেইমারের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জেরার্দ দেউলোফেউ আরেকটি ক্রস বাড়ান। এবারও বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড।
৫৫তম মিনিটে পিকেকে পায়ের কাজে বোকা বানিয়ে নেওয়া বেনজেমার ক্রসে কারভাহালের শট গোললাইন থেকে ফেরান জর্দি আলবা।

৫৮তম মিনিটে দুয়ো ধ্বনির মধ্য দিয়ে বেনজেমার বদলে মাঠে নামেন রোনালদো। বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাঠে, তবে জবাবটা ঠিকই দিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিক দর্শকদের।

৭১তম মিনিটে খুব কাছ থেকে মার্সেলোর শট ঠেকিয়ে বিপদ বাড়াতে দেননি গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।
একটু পর অপর প্রান্তে সমতা ফেরানোর সবচেয়ে সহজ সুযোগটা নষ্ট করেন সের্হিও বুসকেতস। জটলা থেকে দেনিস সুয়ারেসের বাড়ানো বল পেয়ে খুব কাছ থেকে মারেন ক্রসবারের উপর দিয়ে।

কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করা মেসি অবশেষে ৭৭তম মিনিটে সমতা ফেরান পেনাল্টি থেকে বুদ্ধিদীপ্ত কিকে নাভাসকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে। লুইস সুয়ারেসকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে নাভাসের বিরুদ্ধে দেওয়া সিদ্ধান্তটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

তখনও বাকি ছিল রোনালদোর চমক। ৮০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ইসকোর বাড়ানো বল ধরে পায়ের কাজে পিকেকে পরাস্ত করে ডি-বক্সে ঢুকেই জোরালো শটে চুপ করিয়ে দেন কাম্প নউকে। উপরের ডান কোনা দিয়ে জালে ঢোকা বলটি ঠেকানোর কোনো উপায় জানা ছিল না টের স্টেগেনের।
গোলের পর জামা খুলে গর্জন করে সুগঠিত শরীর দেখান পর্তুগিজ অধিনায়ক। দেখেন হলুদ কার্ডও, যেটি পরে কাল হলো তার।

দুই মিনিট পর ডি-বক্সে ডাইভের অভিযোগে রোনালদো দেখেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক উঠতে পারে। তবে লাল কার্ড দেখে মেজাজ হারিয়ে হাত দিয়ে রেফারির পিঠে ধাক্কা দেওয়ার জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন চার বারের বর্ষসেরা এই ফরোয়ার্ড।

প্রতিপক্ষ দলে একজন কম থাকার সুবিধা নিয়ে বার্সেলোনা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে জয় নিশ্চিত করে ফেলে জিদানের দল। লুকাস ভাসকেসের বাড়ানো বলে মার্কো আসেনসিওর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট জালে ঢোকে পোস্টের উপরের বাঁ কোনা দিয়ে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে শট নিতে বাধা দিতে পারেননি পিকে।

২১ বছর বয়সী আসেনসিও লা লিগা, কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপের পর এবার স্প্যানিশ সুপার কাপেও রিয়ালের হয়ে অভিষেকে গোল পেলেন।
চির প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠে দুর্দান্ত এই জয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতে মৌসুম শুরু করা রিয়াল স্প্যানিশ ফুটবলের মৌসুম শুরুর ট্রফিও ঘরে তোলার লক্ষ্যেও অনেক এগিয়ে গেল। বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফিরতি লিগে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তাই অসাধ্যই সাধন করতে হবে এরনেস্তো ভালভেরদের দলকে।