আইন-আদালত জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

মুসলমানের ব্যক্তি জীবনে কিভাবে আইনের প্রয়োগ হয় জেনে নিন

মো: আজিজুল বাশার: দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেকদিন ধরেই কিছু লেখা হয়ে উঠছে না। এর মধ্যেই কিছু ব্যাপারে কয়েকটা প্রশ্ন বারেবার উকি দিচ্ছে। তার মধ্যে একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি মুসলিম, আমি বাংলাদেশের অধিবাসী। আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে যেমন বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদিতে মুসলিম শরিয়া কেন মেনে চলতে হয়? কোন আইনী বাধ্যবাধকতা আছে কি? আজ জবাব পেলাম।
ব্রিটিশরা যখন এ দেশ শাসন করত তখনই এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন করে গেছে। সে আইনের নাম  the Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937। ৭ অক্টোবর, ১৯৩৭ তারিখে এই আইন প্রনীত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীও আইনটি গ্রহণ করে এবং সর্বশেষ স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সরকার 1973 সালে ৮নং আইনের মাধ্যমে সংসদে আইনটি গ্রহণ করে।
ভারতীয় উপমহাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষের বাস, যা পুরো বিশ্বের প্রায় এক চতুর্থাংশ। এর মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগুরু, প্রায় ৭৯%, এরপর মুসলিমরা প্রায় ১৫% বাদবাকিরা খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও আঞ্চলিক ধর্মের মানুষ। মুসলিমরা এ উপমহাদেশে দ্বিতীয় সংখ্যাগুরু হওয়ায় এ দেশের শাসকগোষ্ঠী সেই শুরু থেকেই সবার উপযোগী আইন প্রণয়ন করছে।
বিভিন্ন কারণে আমরা ইউরোপীয় বেনিয়াদের দ্বারা সরাসরি ২০০ বছর শাসিত হওয়ার সুবাদে আমাদের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের দেওয়া ফর্মুলায় গড়ে উঠেছে এবং চলছে। সেই ব্রিটিশদের দেয়া দি মুসলিম পারসোনাল ল’ (শরীয়া) আইন, ১৯৩৭ (১৯৩৭ সালের ২৬ নং আইন)।
এ আইনের প্রস্তাবনা অনুসারে বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে এ আইন প্রবর্তন হয়। এ আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য যা এ আইনের ১ ধারায়ই বলা আছে। কৃষি জমি সংক্রান্ত আইনী সমস্যা ব্যতীত উত্তরাধিকার, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, নারীর বিশেষ সম্পত্তি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি যা উত্তরাধিকার বা অন্য কোন বৈধ উপায়ে অর্জন করা হয়, বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ যা তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা, মুবারাতভুক্ত, স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব, দান, ট্রাস্ট, ট্রাস্ট সম্পত্তি এবং ওয়াকফ বিষয় (যা দাতব্য ব্যবস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে করা হয় ব্যতীত) বিষয়াবলীতে যদি পক্ষগণ মুসলিম হয় তবে সেক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে।
কিন্তু, এ ব্যবস্থা উন্মুক্ত নয়। এর জন্য সরকারের অনুমতি আবশ্যক। সরকার বিধি প্রণয়ন করে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করলে, সে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে নিযুক্ত হবেন এবং এরূপ যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে এফিডেভিট সহকারে এ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদন মঞ্জুর হলে এ আইন সে ব্যক্তির প্রতি কার্যকর হয়। এছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইনের বিষয়াবলী সাধারণ ভাবেই কার্যকর। সে ব্যাপারে পরে আলোচনা করব।
(মো: আজিজুল বাশার, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট)