জাতীয়

মিয়ানমার গেলেন বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেন

নিপীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটিতে গেলেন বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি)’র প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সোমবার দুপুরে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।

এতে বলা হয়, মিয়ানমারের নেপিদোতে মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া চার দিনের এই সম্মেলনে মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো সুয়ি উইনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। সেখানে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কাস্টম বিভাগের কর্মকর্তারা থাকবেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত লংঘন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো, ভূমি ও আকাশসীমা লংঘন, সীমান্তে সামরিক বাহিনীর চলাচল- মাইন স্থাপন, পুঁতে রাখা মাইন ও বিস্ফোরক অপসারণ, সন্ত্রাসী- নাগরিকদের আটক ও অপহরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমারের ৩০টি পুলিশ পোস্টে সন্ত্রাসী হামলার পর রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর অভিযানে টিকতে না পারে ইতিমধ্যে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

বর্তমান সংকটের পাশাপাশি ইয়াবাসহ মাদক ও অন্যান্য দ্রব্য চোরাচালান এবং মানব পাচার বন্ধ সহ অবৈধভাবে মাছ আহরণ ও বাংলাদেশি জেলেদের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনাও এই সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য নিয়মিত পতাকা বৈঠক, স্থানীয় অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক, নাফ নদীসহ সীমান্তে সমন্বিত যৌথ টহল ও সীমান্তে যৌথ নজরদারি ছাড়াও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ ও সফর বিনিময়, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময়, উভয় বাহিনীর পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্যদের ভ্রমণের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।

সফরে বিজিবি প্রধানের মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী এবং পুলিশ ফোর্সের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।