জাতীয়

মির্জা ফখরুলকে যে চ্যালেঞ্জ দিলো ওবায়দুল কাদে্র

নির্বাচন কমিশন সচিব প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন সচিব কোনো দিনও আওয়ামী লীগ অফিসে যাননি। এটা তাদের সাজানো এবং বানোয়াট মিথ্যা কথা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

বুধবার (১১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের সিক্স সিজন হোটেলে নারী নেতৃত্বের ওপর এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

গত মঙ্গলবার (১০ জুলাই) এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একজন সচিবকে দিয়ে আপনারা (সরকার) নির্বাচন কমিশন চালান; হেলালুদ্দীন সাহেব। আমি সরি, সাধারণত নাম বলি না। উনি সচিবালয় থেকে এসেছেন এখানে (নির্বাচন কমিশন), বিশেষভাবে তাকে সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

‘শোনা যায়, তিনি নির্বাচন কমিশনে অফিস করেন ৪টা পর্যন্ত। তারপর চলে যান কোনো একটা বিশেষ দলের বিশেষ কার্যালয়ে। সেখানে তাদের দলের নির্বাচনের সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি হয়। যেটার প্রধান হচ্ছেন এইচ টি ইমাম সাহেব।’

বিএনপি মহাসচিবের কথার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা বলেছেন ইসির সচিব আওয়ামী লীগের অফিসে যান। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ইলেকশন কমিশন সচিব কোনো দিনও আওয়ামী লীগ অফিসে যাননি। এটা তাদের সাজানো এবং বানোয়াট মিথ্যা কথা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা তাদের প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে এর জবাব তাদের দিতে হবে।’

‘একদিনের জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দেখুন, কী অবস্থা হয় দেশের’- মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমরা একদিনের জন্য বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিলাম, তাহলে কী হবে বলুন? বাংলাদেশ রসাতলে যাবে। একদিনেই বাংলাদেশে রক্তের নদী বয়ে যাবে, একদিনেই বাংলাদেশ সন্ত্রাসের লীলাভূমিতে পরিণত যাবে, একদিনেই বাংলাদেশে পুরনো হাওয়া ভবন, পুরনো খাওয়া ভবনে রূপান্তর হবে।’

বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। অক্টোবরে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হবে, দেখা যাবে এ কথার মানে কী? তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে তারা যাবেন কি যাবেন না; সেটা প্রমাণ হবে অক্টোবরেই।’

বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত, মুক্তিও দিতে পারেন আদালত। তাদের (বিএনপি) কথায় মনে হয় আওয়ামী লীগই যেন তাকে আটকে রেখেছেন, শেখ হাসিনা আটকে রেখেছেন। এটা কিন্তু বাস্তবতা নয়। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। আইনি লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।’

আওয়ামী লীগ সরকার জনবিচ্ছিন্ন ও অস্ত্রের জোরে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে- এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার জনবিচ্ছিন্ন কি জনসমর্থনপুষ্ট তার প্রমাণ সাম্প্রতিক খুলনা সিটি ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন। আরও যদি প্রমাণ চান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসুন, জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। জনগণ আমাদের ভোট না দিলে আমরা তো সরকারে আসতে পারব না। কাজেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরীক্ষা নিতে পারেন। গাজীপুরে শিক্ষা হয়নি, খুলনায় শিক্ষা হয়নি, আর কত শিক্ষা চান!’