জাতীয় বরিশাল বিভাগীয় সংবাদ

‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বারবার বহিষ্কৃত নেতা ও বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আবার প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দেলোয়ারের কঠিন প্রতিশোধ এবং সিনিয়র নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে অভিমত জানাতে গিয়ে বহিষ্কৃত নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন দম্ভভরে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ স্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক কর্মী সভায় বলেন, ‘শম্ভুর নৌকাকে পরাজিত করে আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হয়েছি।’

দেলোয়ার নিজের কর্মী-সমর্থকদের সম্পর্কে আরও বলেন, ‘যদিও ইতিপূর্বে আমরা মোরগ ছিলাম, জাহাঙ্গীর কবির মনোনয়ন পেলে সবাই নৌকা হয়ে যাব।’

এ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি এমন ভাষায় কথা বলেন কী করে? তারা বলেন, ‘দেলোয়ার জনগণকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে বিভ্রান্তই করছেন না, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন।’

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘চারবারের নির্বাচিত একজন সাংসদকে উদ্দেশ্য করে দেলোয়ার বলেছেন, ‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে’। যা রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধের শামিল।’

তারা আরও বলেন, ‘দেলোয়ার কেবল তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ স্বীকারই করেননি, হুমকি প্রদর্শন করে বলেছেন, ‘এবার এক ঢিলে একটা পাখি নয়, এক ঢিলে এক ঝাঁক পাখি মারব। তিনি জেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভয় প্রদর্শনের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করছেন।’

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘দেলোয়ার আমৃত্যু নিজেকে একজন মোরগযোদ্ধা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। যিনি নিজে কখনোই নৌকায় ভোট দেননি, ভবিষ্যতে যে দেবেন এমন চিন্তা জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ করেন না। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর নৌকাকে পরাজিত করতে চাইবেন- এটাই স্বাভাবিক।’

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘জাহাঙ্গীর কবিরকে ড্যামি প্রার্থী বানিয়ে তার সকল পথসভায় নিজের গুণগান গেয়ে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে কী বোঝাতে চাইছেন দেলোয়ার? তিনি ইতোমধ্যেই তার ভয়ঙ্কর লাঠিয়াল বাহিনীকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপন বলেন, ‘দেলোয়ার নিজেই যেখানে জাহাঙ্গীর কবিরকে হটিয়ে জেলা পরিষদ দখল করেছেন, হঠাৎ সেখানে এতো জাহাঙ্গীর প্রীতির কারণটা কী, তা বরগুনার জনগণ বুঝে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেলোয়ারের প্রধান কাজই হলো দলকে দ্বিধাবিভক্ত করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করে নেয়া এবং সময়মতো সটকে পড়া।’

উল্লেখ্য, বরগুনা-১ আসনে (সদর-আমতলী-তালতলী) জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বারবার বহিষ্কৃত নেতা মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকার দ্বিতীয় প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে ব্যবহার করে জেলা আওয়ামী লীগের তিনটি প্রধান কার্যালয় দখলে রাখার অভিযোগের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, ‘জাহাঙ্গীর কবিরকে হাতের পুতুল বানিয়ে দেলোয়ার মূলত জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ শম্ভুর প্রতি প্রতিশোধের রাজনীতির সফল বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে চান। তবে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংসদ শম্ভুর নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ সূত্রঃ ঢাকাটাইমস

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি