খেলা-ধুলা

মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ইরফান

গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে গেছে তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পূর্ণ করে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফান এখন মাঠে ফেরার অপেক্ষায়। আপাত লক্ষ্য ওয়াপদার হয়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট কায়েদে-আজম ট্রফিতে খেলা। স্বপ্ন দেখছেন ঘরোয়া এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের দ্রুতি ছড়িয়ে দ্রুতই জাতীয় দলে ফেরার। খেলতে চাইছেন আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাহোরের টি-টুয়েন্টি ম্যাচটিতে।

এ বছরই অনুষ্ঠিত পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন পাকিস্তানের বেশ কয়েক ক্রিকেটার। ৩৫ বছর বয়সী ইরফান তাদেরই একজন। তবে সরাসরি স্পট ক্সিং করেননি ইরফান। তার অপরাধ ছিল বাজিকররা তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিলেও তিনি তা যথাযথভাবে টিম ম্যানেজমেন্টকে রিপোর্ট করেননি।

অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েও তা বোর্ড কর্তাদের না জানানোও অপরাধ। সেই অপরাধে দীর্ঘদেহী এই পেসারকে প্রাথমিকভাবে ১ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বহিস্কার করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সঙ্গে জরিমানা করা হয় এক লাখ রুপি। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিষেধাজ্ঞার সব বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চললে এক বছরের নিসৈধাজ্ঞা নেমে আসবে ৬ মাসে। নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে ইরফান সব নির্দেশনা মেনে চলেছেন। ফলে ৬ মাসেই শেষ হয়ে গেছে তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ।

পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো অবশ্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। পিসিবির কর্তারা বর্তমানে আইসিসি বিশ্ব একাদশের সফর নিয়ে ব্যস্ত। পিসিবির কর্তাদের সঙ্গে তাই ইরফানের কথা হয়েছে ফোনে। তারা শিগগিরই ইরফানকে আবার ক্রিকেট খেলার অনুমতি প্রদানের চিঠি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। মানে ইরফানের ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র পাওয়াটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার মাত্র। সব কিছু বাদ দিয়ে তিনি তাই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবার ক্রিকেট মাঠে ফেরার।

দীর্ঘদেহী এই পেসারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ২০১০ সালে। তারও এক বছর আগে থেকে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনে। ফলে ছোটবেলা থেকেই যে নিজেদের ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখতেন, তা এখনো পূরণ হয়নি তার। দীর্ঘদিন পরে আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ দিয়ে পাকিস্তানে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হচ্ছে বটে; তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরফান তা খেলতে পারছেন না।

সেই কষ্টের কথা জানিয়ে ইরফান বলেছেন, ‘আমি এতোটাই দুর্ভাগ্যবান যে, নিষেধাজ্ঞাটা এমন একটা সময়ে কাটাচ্ছি, যখন পাকিস্তানে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে আমি ঐতিহাসিক ম্যাচের অংশ হতে পারছি না।’

একটু থেমে আবার বলেছেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেট খেলতে না পারাটা খুবই কষ্টের। আসলে নিষেধাজ্ঞা একজন ক্রিকেটারের জীবনটাকেই কঠিন করে তুলে। এটা খুবই কষ্টের ব্যাপার যে, আপনার স্বপ্নের ম্যাচটি আপনার চোখের সামনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, অথচ আপনা তা খেলতে পারছেন না।’

তবে আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে না পারলেও আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাহোরের ম্যাচটিতে ঠিকই খেলতে চান ইরফান। এ মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট, ৫টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। সফরের সবগুলো ম্যাচই হবে পাকিস্তানের ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবে ব্যবহারিত সংযুক্ত আরব আমিরাতে। শুধু শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটা হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। ২৯ অক্টোবরের সেই ম্যাচ দিয়েই নিজ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে চান ইরফান, ‘আমি এখন শ্রীলঙ্কা সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। যে সিরিজের শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটা হবে লাহোরে।’