বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাশূন্যে গুলি করলে যে অদ্ভুদ ঘটনা ঘটবে!

পৃথিবীতে গুলি করা আর মহাশূন্যে গুলি করার পর প্রথম যে পার্থক্যটি পরিলক্ষিত হবে তা হলো শব্দে। পৃথিবীতে গুলি করলে তা বেশ জোরালো একটা শব্দ তৈরি করে। তবে মহাশূন্যে গুলির কোনো শব্দ পাওয়া যাবে না। কিন্তু এখানেই সব শেষ না। মহাশূন্যে যিনি বন্দুকের ট্রিগারে চাপ দেবেন, তাকে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।

নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, বন্দুক তাক করে গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দুক থেকে গুলি বের হওয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়ায়, যিনি গুলি ছুড়েছেন তিনি ঠিক উল্টো দিকে ছিটকে যাবেন। এখন প্রশ্ন করা যেতে পারে, এই ছিটকে যাওয়ার গতি কতটা হতে পারে?

এমন একটি বন্দুক ব্যবহার করা হল, যার থেকে বের হওয়া গুলির গতি ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৬শ মাইল। তাই মহাশূন্যে এই বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ার পর, যিনি গুলি ছুড়বেন তাকে ঘণ্টায় প্রায় ০.০৬৮ মাইল গতিবেগে উল্টো দিকে ছিটকে যেতে হবে।

অন্যদিকে, এমন একটি বন্দুক ব্যবহার করা হল, যার থেকে বের হওয়া গুলির গতি থাকে ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৩৩০ মাইল। অর্থাৎ, এর গুলির গতিবেগ আগের বন্দুকটির গুলির বেগের চেয়ে কম। কিন্তু দ্বিতীয় বন্দুকের বুলেটের ওজন প্রথম বন্দুকের বুলেটের ওজনের প্রায় দ্বিগুণ।

এর ফলে দ্বিতীয় পিস্তল থেকে গুলি ছুড়লে, প্রথম বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ার দ্বিগুণ গতিতে উল্টো দিকে ছিটকে যেতে হবে। সেই গতি হবে ঘণ্টায় ০.১৩৬ মাইল; যা আধাঘণ্টায় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণের জন্য যথেষ্ট।

তবে যে অস্ত্রই ব্যবহার করা হোক না কেন, মহাশূন্যে নিশানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন। কারণ, শেষ পর্যন্ত সামনের দিকে ছোড়া গুলি উল্টো পথে ঘুরে নিজের পিঠেই বিদ্ধ হতে পারে। মহাশূন্যে যেহেতু কোনো প্রতিরোধক নেই, তাই কোনো একটা গ্রহের কক্ষপথ ঘুরে যিনি গুলি ছুড়েছেন তার পিঠেই গুলিটি বিদ্ধ হতে খুব বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।

ভিডিওঃ আরবের মেয়ের যে বেলি ড্যান্স দুনিয়া কাপাচ্ছে

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.