অন্যরকম খবর ইসলাম জাতীয় ধর্ম হিন্দু

মসজিদের বারান্দায় চলছে পূণ্যার্থীদের বিশ্রাম, প্রসাদ রান্না!

ছবি: নাজমুল পারভেজ

জুমবাংলা ডেস্ক: ‘মসজিদের বারান্দায় চলছে পূণ্যার্থীদের বিশ্রাম, প্রসাদ রান্না! অবাক হচ্ছেন? হবেনই তো। জাত-পাতে ইজম থাকলে মানুষকেও অনেক সময় অমানুষ মনে হয়। বিশেষ করে যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন।

আর আমরা যারা সধারণ মানুষ-ধর্মটাকে বেশি লালন করি, তাদের কাছে সকল ধর্মের বয়ান একই। বন্ধন, সম্প্রীতিও একই। মসজিদে আগুন লাগলে যেমন ননি দা দৌড়ে এগিয়ে আসেন। তেমনি মন্দিরে হামলা ঠেকাতে আমরাই সবার আগে এগিয়ে যাই।

আমরা যারা ছোটকাল থেকেই মেলা বলতে কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দরের বিশাল অষ্টমীর স্ন্যানকে জেনেছি, পানির কলস আর মগ নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে পূণ্যার্থীদের জল পান করিয়েছি, রাত জেগে ঢোলের বারি শুনতে পুজোর বাড়িতে গিয়ে আনন্দ করেছি-তাদের কাছে আজকের এই দৃশ্য আরও বড় সম্প্রীতির বন্ধন করা যেত বলেই ভাবছি।

ছবি: নাজমুল পারভেজ

আজ ছিল চিলমারী বন্দরে ঐতিহাসিক অষ্টমীর স্ন্যান। উত্তরাঞ্চলের হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় পূণ্য স্ন্যান এটি। যুগ যুগ ধরে এটির প্রচলন হয়ে আসছে।

আজকের এই দিনে চিলামরীর প্রতিটি বাড়িই বিশেষ করে রাস্তার পাশের বাড়ির বাসিন্দারা পূণ্যার্থীদের সার্বিক সহযোগীতা দিতে প্রস্তুত থাকেন। রমনা ঘাটের প্রতিটি বাড়িতেই এদিন পূণ্যার্থীদের বিশ্রাম ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন থাকে। সাধারণ মুসলমানরা এটি ছওয়াবের আশায় করেন।

ছবি: নাজমুল পারভেজ

নাজমুল পারভেজের তোলা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে চিলমারী উপজেলা মসজিদে পূণ্যার্থীরা বিশ্রাম নিচ্ছেন। মসজিদের পানি দিয়েই রান্না হচ্ছে পূণ্যার্থীদের প্রসাদ রান্না। একদিকে আজান হচ্ছে, মুসল্লিরা নামাজে আসছেন এবং অন্যদিকে বারান্দায় বিশ্রাম নিচ্ছেন হিন্দু ধর্মালম্বী আগত পূণ্যার্থী ভাইয়েরা।’

লেখক: দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবন

জুমবাংলানিউজ/এইচএম