slider জাতীয়

ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশে

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অপ্রতুল। তাই প্রতি মাসে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার যে প্রত্যাক্ষভাবেই ভারত নিয়ন্ত্রণ করে সে বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই।

সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক বন্যায় ভারতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে দেশটির বাজারে। আর সে দেশের দাম বৃদ্ধির প্রভাবের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে। প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ভারতের বাজারের প্রভাবকেই দায়ী করছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমজাদ পাটোয়ারী বিবার্তাকে বলেন, শুনেছি ভারতে দাম বেশ বেড়ছে। সেই দাম বাড়ার রেশ আমাদের এখানেও পড়েছে।

তবে ক্রেতাদের সন্দেহ অন্যদিকে। তারা মনে করছেন ভারতে দাম বৃদ্ধিকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে ইদের আগে দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী পত্নী সাম্মী আহম্মেদ বিবার্তাকে বলেন, আমার মনে হয় সামনে ইদের কারণে বেশি লাভের আশায় অসৎ ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। কারণ প্রতিবার কোরবানির ইদের আগে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন মসলার দাম ব্যপক হারে বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, জনপ্রিয় ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা পশ্চিমবঙ্গে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে তারা বলছে, পেঁয়াজের দামের ওপর এ রাজ্যের অতিবৃষ্টির প্রভাব সাধারণভাবে পড়ার কথা নয়। কেননা তা আসে মূলত কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, নাসিক থেকে। কিন্তু বিপত্তি ভিন্ন রাজ্যেও। কর্নাটক, অন্ধ্রে বৃষ্টি না হওয়ায় পেঁয়াজের আকার বাড়েনি। শুকনো আবহাওয়ায় সেখানকার বেশিরভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে অতিবৃষ্টির ফলে নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজ সরবরাহে একমাত্র ভরসা নাসিক। মহারাষ্ট্রের আকোলা থেকেও অবশ্য কিছু পেঁয়াজ আসছে রাজ্যটিতে। কিন্তু তাতে দাম বৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না। বছরের এ সময়টায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দাম সাধারণভাবে ১০-১১ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার পোস্তা, কোলে মার্কেটে সেটা ৩০-৩৫ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকায়।

চলতি সপ্তাহে আদা ও রসুন আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

চলতি সপ্তাহে বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৮ টাকা, মোটা চাল ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, আটাশ ৪৯ থেকে ৫০ টাকা, পাইজাম ৪৫ থেকে ৪৬ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নতমানের চাল ৬৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে সবজির দামও যথেষ্ট চড়া। প্রতিকেজি সাদা আলু ২০ থেকে ২২ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঝিঙ্গা-চিচিঙ্গা-কাকরোল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কচুরমুখি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, লেবু হালিপ্রতি ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক ইত্যাদি আঁটিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে ইলিশ বাদে অন্যান্য মাছ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত দু’এক দিনে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া, আকারভেদে প্রতিকেজি রুই ও কাতলা মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ১০০ থেকে ১৩০, কোরাল আকারভেদে ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাঁসির মাংস ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া, লেয়ার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০, দেশি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Advertisements