slider জাতীয়

ভারতীয় গরু না এলেও এবার সংকটের শঙ্কা নেই

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বৈধ ও অবৈধপথে কোরবানির পশু আমদানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের খামারিরা। তারা এটা দাবি করছেন, এবার দেশেই পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। তাই বিদেশী পশু আনা হলে দেশীয় খামারিরা বিপাকে পড়ে যাবেন।

সূত্র মতে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এবং দেশের খামারিরা বলছেন, গরুর মজুদ পর্যাপ্ত। সঙ্কটের আশঙ্কা নেই। আবার এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের চামড়া শিল্পও। কেননা, কোরবানিতেই সংগৃহীত হয় সারা বছরে মোট চাহিদার অর্ধেক চামড়া।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে অবৈধভাবে গরু পাচার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর থেকে সীমান্ত দিয়ে গরু আসা কমতে থাকে। তাই গত বছরের কোরবানিতে ভারত থেকে গরু সরবরাহ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তবে এত কিছুর পরও বৈধ-অবৈধ পথে গরু এসেছে এবং এখনও আসছে। এবারের কোরবানির ঈদেও ভারত থেকে গরু আসবে, এমনই আভাস দিচ্ছে বিভিন্ন সূত্র। কারণ, এর সঙ্গে ভারতের খামারিদের স্বার্থও জড়িত।

বিজিবির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ভারতীয় কড়াকড়ির মধ্যেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈধভাবে গরু এসেছে তিন লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৫টি। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৭৭ হাজার ৪৪১টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৯ হাজার ২৭৫টি, মার্চ মাসে ৫০ হাজার ৭০০টি, এপ্রিল মাসে ২৯ হাজার ৩৫৬টি, মে মাসে ৫১ হাজার ২২৬টি এবং জুন মাসে ৯৬ হাজার ৯৭৭টি গরু এসেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জুলাই থেকে গরু আসা বাড়তে শুরু করেছে। আগস্ট মাসে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই থাকবে তুঙ্গাবস্থা। কারণ সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কোরবানির ঈদ।

সূত্রমতে, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট এবং চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী ৩১টি করিডর দিয়ে প্রতিদিনই আসছে ভারতীয় গরু। এ গরুগুলো আমদানি হচ্ছে বৈধপথে সরকারকে শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে। তবে অবৈধপথে গরু আসাও থেমে নেই। কোরবানির সময় নির্ধারিত ৩১ পয়েন্টের বাইরে সীমান্তের বিভিন্ন পথে প্রচুর গরু এসে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, দেশে যেসব পশু আছে তা দিয়েই আমাদের কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানির প্রয়োজন হবে না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে সারা দেশের পাঁচ লাখের বেশি খামারি এবার জোগান দেবে প্রয়োজনীয় কোরবানির পশুর। এবার কোরবানির জন্য এক কোটি ১৫ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত আছে। তাই ভারত বা মিয়ানমারের গরুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। পশুর জোগানে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতে, দেশের কোরবানির চাহিদা পূরণে পশুর জোগান দিতে বাইরের কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না। জানা গেছে গতবছর এবারের চেয়ে গবাদিপশু কম ছিল ১০ লাখ।

ইতিমধ্যে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালানো হচ্ছে হাটের প্রস্তুতি ও প্রচার। জমজমাট বিশাল পশুর হাটের আয়োজন করতে চায় প্রত্যেক হাট ইজারাদার। ঈদের বেশকদিন আগে শুরু হবে পশুর হাট। তবে জমজমাট হবে ঈদের পাঁচ থেকে সাত দিন আগে।

গত বছর দেশে গবাদিপশু কোরবানি হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখ। সে তুলনায় এবার খামারিদের মজুদ আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। এরমধ্যে কোরবানিযোগ্য হৃষ্টপুষ্ট ও লাভজনক গরু-মহিষ রয়েছে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার এবং বৃদ্ধ বাতিল অনুৎপাদনশীল ও অলাভজনক গরু মহিষ রয়েছে ১১ লাখ ২৭ হাজার। এছাড়া প্রাপ্ত ছাগল-ভেড়া রয়েছে ২৮ লাখ ৩০ হাজার এবং বৃদ্ধ বাতিল অনুৎপাদনশীল ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৪২ লাখ ৭০ হাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিরা ইতিমধ্যেই শেষ মুহূর্তের যত্ন করছেন গবাদিপশুর।

জানা গেছে, গত এক বছরে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. আ. রশিদ জানান, আমাদের দেশে পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য খামারিরা গবাদিপশু পালনে উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে দেশের কোরবানি চাহিদা পূরণ করেও সারা বছর মাংসের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। যদি ভারত ও মিয়ারমার থেকে গরু আমদানি করা হয় তাহলে আমাদের দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা পশু পালনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। এতে দেশের কৃষি অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আইনুল হক বলেন, বিগত বছরের গরুর যে মজুদ রয়েছে তা কোরবানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আশা করি ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন হবে না। গত বছরের তুলনা এবছর ১০ লাখ পশু বেশি আছে। কোনো সংকট হবে না।

গাবতলীর গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, এবার দেশে কোরবানি পশুর কোনো সংকট হবে না। যদি ভারত বা মিয়ারমার থেকে গরু আমদানি হয় তাহালে দেশের গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু গাবতলী গরুরহাট পরিচালক সানোয়ার হোসেন বলেন, দেশে যে পরিমাণ গরু রয়েছে এতে কোরবানির সংকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারত বা মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি হলে সংকট থাকবে না। দাম বাড়ারও সম্ভাবনা নেই।

Advertisements