অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

যে কারণে বড় বিপদে রুপালী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেশ কয়েকটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের ঋণ প্রদান করে বড় বিপদে পড়েছে রুপালী ব্যাংক। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় ঋণের বড় অংশ আদায়েই ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে নূরজাহান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রূপালী ব্যাংক ঋণ দেয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। সাত বছরে সুদাসলে এ টাকা বেড়ে প্রায় সাড়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে একটি টাকাও আদায় করতে পারেনি ব্যাংকটি। ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুরোনো ঋণ আদায়ে বারবার তাগিদ দিয়ে আসলেও তা কোনো কাজে আসছেনা। এ কারণে বড় ধরনের বিপদে আছে রূপালী ব্যাংক।

রুপালী ব্যাংক বলছে, নূরজাহান গ্রুপ আদৌ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় ঋণের বড় অংশ আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান এ প্রসঙ্গে জুমবাংলাকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ে সমঝোতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে গ্রুপটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা মামলার বিপরীতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে তাতে স্থগিতাদেশ এনেছে। এতে তারা সিআইবি রিপোর্টে ফ্রি হলেও ব্যাংকের কাছে খেলাপি রয়ে গেছে।

সূত্র বলছে, রুপালী ব্যাংক শুধু নুরজাহান গ্রুপের মারবিন ভেজিটেবল অয়েলের কাছে প্রায় ২৫৯ কোটি, জাসমির ভেজিটেবলের কাছে ২৩৩ কোটি, নূরজাহান সুপার অয়েলের কাছে ৮৭ কোটি ও নূরজাহান সানফ্লাওয়ার মিলের কাছে ৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা আদায়ে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে মামলা করে রূপালী ব্যাংক।

এদিকে নূরজাহান গ্রুপকে ঋণ প্রদানে রূপালী ব্যাংকের অদক্ষতা ও অনিয়ম সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্রুপটিকে দেওয়া বৈদেশিক বাণিজ্যের ঋণ সুবিধার বিপরীতে রূপালী ব্যাংকের কাছে জামানত ছিল নিতান্তই নগণ্য। করপোরেট গ্যারান্টি, পোস্ট ডেটেড চেক ছাড়া মাত্র ১০ কোটি টাকার বন্ধকী সম্পত্তির বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি শত শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা ভোগ করে আসছিল বলে জানা গেছে। অর্থঋণ আদালতের অনুমতিতে ব্যাংকের সম্পত্তি নিলামে উঠলেও বন্ধকী সম্পত্তির ক্রেতা পাওয়া যায়নি। খেলাপি হওয়ার প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি থেকে রূপালী ব্যাংক আদায় করেছে মাত্র চার কোটি ১০ লাখ টাকা। বাকি ঋণের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা।

জুমবাংলানিউজ/পিএম