জাতীয় পুঁজিবাজার

ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা সোনালী আঁশের

পুঁজিবাজার প্রতিবেদক : পাট খাতের কোম্পানি সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির ব্যবসা বাড়ানোর কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর জন্য কোম্পানিটি সংঘস্মারকে আরো দুটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে কোম্পানির পর্ষদ। এদিকে এসব পরিকল্পনা প্রকাশের আগের ছয় সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারটির দর ১০০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জ মারফত শেয়ারহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডার পাশাপাশি সংঘস্মারক সংশোধনের প্রস্তাব বিবেচনা করবেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। সভার রেকর্ড ডেট ২৬ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পাট, তুলা, চামড়া, উলের পাশাপাশি কচুরিপানা, হোগলা, ঘাসের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদন করবে তারা। নতুন ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটও স্থাপন করবে। নতুন পণ্যসম্ভার নিয়ে ব্যবসার বিষয়টি সংঘস্মারকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এজিএমে উত্থাপন করা হবে।

এদিকে অর্থায়ন প্রক্রিয়ার সুবিধার্থে কোম্পানি তাদের কোনো ইউনিট, সহযোগী বা সাবসিডিয়ারিকে গ্যারান্টি দেয়ার অধিকার অর্জন করতে চায়। প্রয়োজনে কোম্পানির সম্পদ, কারখানা বন্ধক রাখারও সুযোগ রাখা হবে সংঘস্মারকের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে সোনালী আঁশের পর্ষদ। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২২৫ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল মাইনাস ৫১ টাকা ৬৪ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্যও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সোনালী আঁশ। ওই বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরেও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। তখন ইপিএস হয় ১ টাকা ৫৯ পয়সা।

সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং অনুসারে দীর্ঘমেয়াদে সোনালী আঁশের ঋণমান ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।

এদিকে সংঘ স্মারকে প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিষয়গুলো প্রকাশের আগেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে  সোনালী আঁশের শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ছয় সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির বাজারদর ২৮৫ টাকা থেকে ৬৩৯ টাকায় উঠে গেছে।

১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় রফতানিমুখী এ কোম্পানি। বর্তমানে এর পরিশোধিত মূলধন ২ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম