অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে টাকার মান

প্রতীক মুস্তাফিজ : মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কমাতে হিসাব নিকাশ ছাড়াই বাজারে ডলার ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতেও স্থিতিশীল হচ্ছে না বাজার। বেড়ে যাচ্ছে ডলারের দাম আর কমছে টাকার মান। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘কোথায় গায়েব হয়ে যাচ্ছে এত ডলার?’ ডলার সঙ্কট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঠিক সময়ে বিদেশি ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অনেক এলসি। গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৫৫ কোটি ডলার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিক্রিও করা হয়েছে। তাতে খুব বেশি লাভ হয়নি। কোনো কোনো ব্যাংক ৮৪ টাকার বেশি দামেও ডলার বিক্রি করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান গত এক বছরে ক্রমাগত কমছে। তাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রফতানি আয়ে ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়লেও আমদানিতে খরচ বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ জুমবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টা অনুসন্ধান না করেই যদি আমাকে বলতে হয়, তাহলে আমার অনুমান বলছে-আমদানির তথ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কোনঠাসা হওয়া দেশের কিছু ব্যবসায়ী এ ঘৃণীত করাজটি করছে বলে ধারণা করছি। যেহেতু আমদানি বাড়ার কারণেই ডলারের চাহিদা বেড়েছে, সে অনুমানেই কথা বলছি।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার বা অন্য মুদ্রা কেনাবেচা করে, তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার বলা হয়। ব্যাংকগুলো এর চেয়ে এক থেকে দেড় টাকা বেশি দামে ডলার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। গত এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ছয় মাসের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসে ১২৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ গত অর্থবছরের এই সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কোনো ডলার বিক্রি করতে বা কিনতে হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সময়মতো বিদেশি ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করাও এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এলসি।

ডলার সঙ্কট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আগের বছরে ব্যাপকহারে আমদানি হওয়ায় এখন ডলার সঙ্কট হচ্ছে। ওই সময় রফতানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি ছিল। তবে বর্তমানে রফতানির প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। আমদানিও কমতে শুরু করেছে। শিগগিরই অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি মনে করছেন। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় থাকার কোনো বিকল্প নেই। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রফতানি, রেমিট্যান্স আয়ের সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের একটা অসামঞ্জস্য হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। এর ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আর চাহিদা অনুযায়ী ডলারও দিতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

জুমবাংলানিউজ/পিএম