চট্টগ্রাম জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

বেরিয়ে আসছে আরো রোমহর্ষক তথ্য

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বেরিয়ে আসছে আরো রোমহর্ষক তথ্য। পাঁচ মিনিটের সেই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিচ্ছেন আসামিরা।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বুধবার বিকেলে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আরেক আসামি আবদুর রহিম ওরফে শরিফ।

পিবিআই’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল জানান, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী তার দায়িত্ব ছিল মাদরাসার গেটে পাহারা দেয়া। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন।

এর আগে নূর উদ্দিন এবং শাহাদাত হোসেন শামীমও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের আদ্যোপান্ত।

তিনজনের স্বীকারোক্তিতেই জানা গেছে, অধ্যক্ষের নির্দেশেই তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ একটি ছক তৈরি করা হয়। পরে প্রত্যেকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার ঘনিষ্ঠ নূর উদ্দিন জবানবন্দিতে জানান, ২৭ মার্চ পিয়নের মাধ্যমে নুসরাতকে নিজের কক্ষে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন সিরাজ। ওই ঘটনায় নুসরাতের মায়ের করা মামলায় কারাগারে আছেন অধ্যক্ষ সিরাজ। ৩ এপ্রিল তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নুসরাতকে হত্যার জন্য নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামিম, হাফেজ কাদের, জাবেদ ও জোবায়েরকে নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ সিরাজ । ৪ এপ্রিল রাতে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা করে নূর, শামিম, কাদের, জোবায়ের, জাবেদ, মহিউদ্দিন শাকিল, মো. শামিম, ইমরান, ইফতেখার ও শরীফ। পরিকল্পনার কথা জানার পর কাউন্সিলর মাকসুদ ১০ হাজার ও মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষক সেলিম পাঁচ হাজার টাকা দেন।

জবানবন্দিতে নূর উদ্দিন আরো জানান, ৬ এপ্রিল পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদরাসার গেটে অবস্থান নেন নূরউদ্দিনসহ পাঁচজন। নুসরাতের সঙ্গে আসা ভাই নোমানকে ঢুকতে দেননি নুরউদ্দিন। সাইক্লোন সেন্টারের নিচে পাহারা দেন মহিউদ্দিন শাকিল ও শামীম। শরীরে আগুন নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের নিচে নেমে আসে নুসরাত। তাকে বাঁচানোর জন্য পরীক্ষার হলে থাকা পুলিশ সদস্য ও মাদরাসার নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এলে সবার সামনে পানি নিয়ে আসে নূরউদ্দিন, হাসপাতালে নিতে অটোরিকশাও ঠিক করে দেন। পরে ময়মনসিংহে আত্মগোপন করেন তিনি।

সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া শাহাদাত হোসেন শামীম জবানবন্দিতে জানান, দেড় মাস আগে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন তিনি। সেই ক্ষোভ থেকে ৪ এপ্রিল রাতে তিনিই আগুনের পোড়ানোর প্রস্তাব দেন, কেরোসিন কেনার দায়িত্বও নেন। রাফিকে দ্বিধায় ফেলতে উম্মে সুলতানা পপিকে শম্পা নামে ডাকারও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে পপি ডেকে আনে রাফিকে। কামরুন্নাহার মনির আনা বোরকা পড়ে শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের। রাফিকে প্রথমে ধরে পপি ও মনি। শামীম মুখ চেপে ধরে। ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে এক লিটার কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় জোবায়ের। পুরো হত্যাকাণ্ডে সময় লাগে পাঁচ মিনিটেরও কম।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি