বিনোদন লাইফ স্টাইল

বিয়ের রীতিকে বুড়ো আঙুলঃ তাসনিমের কড়া সমালোচনা

পেশায় চিকিৎসক তাসনিম জারা, দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী একটি চ্যারিটি পরিচালনা করেন। তিনি সমাজের প্রচলিত বিয়ের নিয়ম পরিবর্তনের লক্ষ্যে, প্রথাগত বিয়ের রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্রোতের বিপরীতে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি নিজের বিয়েতে এক আঁচড় মেকআপও লাগাননি তিনি। এমনকি পরেননি কোনো স্বর্ণালঙ্কারও। কনের বেশে দামী লাল বেনারসি শাড়ির পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন দাদীর দেওয়া সাদা সুতির শাড়ি।

নিজের সাদামাটা বিয়ের ছবিটি তিনি তার ফেইসবুকে শেয়ার করেন। প্রায় ১ লাখ ২ হাজার লাইক, ২৬ হাজার ৮ শত শেয়ার এবং দেড় হাজার কমেন্ট আসে তাসনিমের শেয়ারকৃত বিয়ের ছবিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তাসনিমের এই বিপরীত স্রোতের উদ্যোগকে ঘিরে যেমন অভিনন্দন এবং প্রসংশা করা হয়েছে, সমালোচনার তীরও তেমন থেমে থাকেনি ।
প্রলয় হাসান নামের একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী তাসনিমের এই উদ্যোগকে সমালোচনা করে নিজের ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটিতে তাসনিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেন…

“- যখন আপনি আমাদের উপমহাদেশের শত বছরের ঐতিহ্য বিয়ের লাল বেনারসী শাড়ীকে “a crazy expensive dress” আখ্যা দিয়ে দিবেন অথচ নিজে দামী কমিউনিটি সেন্টারে দামী সোফায় বসে পোজ দিবেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের সামনে।
– এবং যখন আপনি সেই ছবি ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে কুটি কুটি লাইক/শেয়ার কামিয়ে ফেলবেন।

– এবং সেই ছবিতে আপনাকে দেখা যাবে, আপনি কাফনের কাপড়ের মতো সাদা শাড়ী পড়ে বাংলার পাচেঁর মতো মুখ করে হিজাব পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসে আছেন। বিয়ে একজন মানুষের জীবনের অন্যতম সেরা দিন, সেই সেরা দিনে যখন আপনি কাফনের কাপড় পরে ”জিরো মেকাপ” (এতটাই যে আপনাকে বিয়ের বউ হিসেবে কিছুতেই আলাদা করে চিহ্নিত করার জো নেই) করে বসে থাকবেন সবার সামনে, তখন বুঝতে হবে আপনার ফেইম সিকিংয়ের লেভেল।

– বিশেষ দিনে বিশেষ পোশাক পরা, সেজে বরের সামনে উপস্থিত হওয়া, এসব আমাদের ধর্মেই বলা আছে। অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলাম ধর্মে কোন বৈরাগ্য নেই। কিন্তু যখন আপনি ইসলামি পোশাক (হিজাব) পরে, সাদা শাড়ী পরে অনাড়ম্বরতা ধারণ করার চেষ্টা করবেন অপরদিকে দামী কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে ধুমধাম করে বিয়েও করবেন বেগুনী রংয়ের টাই পরা কোট পরা বরের পাশে, তখন বুঝতে হবে আপনার ফেইম সিকিংয়ের লেভেল কতখানি হাই!

– আপনি আপনার বিয়েতে যা খুশী তাই করতে পারেন, কোন সমস্যা নাই। আপনার বিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে হোক কিংবা কবরস্থানে হোক, সেটা আপনার বিবেচনা, কিন্তু “taking a stance against the stereotypes” – বলে ছবি তুলে ফেবুতে শেয়ার দিয়ে পিঠ চাপড়ানি পাবার লোভ সামলাতে না পেরে এই জাতীয় হাস্যকর বালখিল্যপনা করলে বুঝতে হবে, আপনার আর ফেরার পথ নেই, আপনি ফেইম সিক করতে করতে একদম রাস্তায় নেমে গেছেন।

– আসলে আপনি ফেইম সিকার হলেও কোন আপত্তি নাই। কিন্তু অন্য দশটা মেয়েকে এইসব করে ফেইম সিকিংয়ে উৎসাহ দেবার রাইট আপনার নাই, এইটা আপনাকে বুঝতে হবে আপা।

লাষ্ট বাট নট লিস্ট, আমার জানা মতে দুনিয়াতে এমন কোন মেয়ে নাই, যাকে তার বিয়ের দিন বিশেষ পোশাক পরতে কিংবা মেক আপ করার জন্য জোরাজুরি করতে হয়, এমন কোন মেয়েকে আমি চিনি না যে সমাজ বা লোক লজ্জার ভয়ে বিয়েতে লাল শাড়ি পরেছে এবং সুন্দর হয়ে সেজেগুজে নিজের পছন্দের বরের সামনে উপস্থিত হয়েছে। বরং আমি জানি যে, যে মেয়ে জীবনে কোনদিনও সাজে না, সে মেয়েরও স্বপ্ন থাকে তার বিয়ের দিনে মনের মতো করে সাজবার। এই আপা কোন গ্রহ থেকে আসছে কে জানে!

আর “ওজনদার ড্রেস” বলে যে পোষাককে আখ্যা দিয়েছেন, সেটার প্রকৃত ওজন আপনার নানীর ঐ সাদা শাড়ীর চেয়ে কম বৈ বেশী হবে না। আরেকটা কথা, আপনি যে উপমহাদেশে বসে বিয়েটা করছেন, সেখানে সাদা শাড়ীকে বিধবাদের পোশাক বলে বিবেচনা করা হয়।

(আগে হলে ভাবতাম, বিধবাদের পোশাক পরে বিয়ে করতে গাটস লাগে। এখন বুঝতেছি যে আসলে গাটস না, এক্সট্রিম লেভেলের ফেইম সিকিং মাইন্ডসেট লাগে!)

এইসব ঠিকঠাকমতো করতে পারলে বুঝবেন আপনার ফেইম সিকিংয়ের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে।

উনার বাচ্চা কাচ্চা নাতি পুতিদের জন্য আফসোস হচ্ছে, তারা তার এই ছবি দেখে প্রথমেই বুঝতেই পারবে না এইটা তার বিয়ের ছবি। বুঝতে সময় লাগবে অথবা বুঝায় দেয়া লাগবে। ছবি দেখে প্রশ্ন করবে

-“মা তুমি বাবার সাথে এইভাবে দাতঁ কেলিয়ে সোফার উপর বইসা আছো কেন এইভাবে?”
– এটা আমাদের বিয়ের ছবি, বাবা।
– ওহ আমি তো ভাবসিলাম তুমি আব্বুর সাথে বইসা টিভি দেখতেছো। :/

প্রাসংগিক একটা তথ্য দেই। ফেইম সিকাররা মানসিক রোগী। এদেরকে বলে narcissistic. সাইকোলজির ভাষায় এর নাম Narcissism.

সবশেষে একটা প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য মনটা আকুপাকু করতেছে – উনার বিয়ের দেন মোহরের পরিমান কত ছিলো? কেউ জানলে পোষ্টে কমেন্ট করে কিংবা ইনবক্সে জানাতে পারেন। ’

প্রলয় হাসানের এই স্ট্যাটাসে তাসনিমের বিয়ের ছবিকে উদ্দেশ্য করে প্রায় ৫৪টি সমালোচনা মূলক কমেন্ট আসে এবং সেই স্ট্যাটাসে প্রায় ৫৮৫ জন ফেইসবুক ব্যবহারকারী সাড়া দেন। প্রলয় হাসান নামের এই ব্যক্তি ছাড়াও ইতোমধ্যে তাসনিমের কড়া সমালোচনা করে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

Advertisements





সর্বশেষ খবর