আন্তর্জাতিক

বিয়ের প্রলোভনে ‘সহবাস’, সাংসদ ঋতব্রতকে নোটিস

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার সহবাস করেছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভিযোগ তুলে, মঙ্গলবার বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নম্রতা দত্ত। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার হাতে নিয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযুক্ত হিসেবে ঋতব্রতকে নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি। আগামীকাল শুক্রবার সকাল দশটায় তাকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে ঋতব্রতর হালতুর বাড়িতে গিয়ে দরজায় নোটিস লাগিয়ে আসেন সিআইডির ৪ অফিসার। তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয় নোটিসের কপি।

এক সিআইডি কর্তকর্তা বলেন, ১৩ তারিখ সকাল দশটায় হাজিরার নির্দেশ। বাবা রিসিভ করেছে। দরজায় সাঁটানো হয়েছে। বাড়ির লোক জানিয়েছে ঋতব্রত কোথায় তারা জানেন না।

এদিকে, এদিনই নম্রতা দত্তকে ডেকে পাঠায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে তার মেডিক্যাল টেস্ট হয়। বালুরঘাট জেলা আদালতে অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি নেন ম্যাজিস্ট্রেট। বাড়িতে ফিরে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করেন নম্রতা দত্ত।

তার দাবি, সন্ধ্যায় দুটি নম্বর থেকে ফোন। বলছে, মামলা না তুললে, আমার আয়ু কমে যাবে।

উল্লেখ্য, দলবিরোধী কাজের জন্য রাজ্যসভা সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করে সিপিএম। দলের রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয় সিপিএমের পলিটব্যুরো। তারপর বিজেপি নেতা ও মুকুল রায়ের সঙ্গে আলোচনা করায় ফের সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন তিনি।

এরই মধ্যে টুইটারে বোমা ফাটান নম্রতা দত্ত নামে ওই তরুণী। তার অভিযোগ, চলতি বছর ১৫ অক্টোবর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। দিল্লির ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়।

শুধু তাই নয়, নম্রতার বালুরঘাটের বাড়িতেও নাকি ঋতব্রত গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

এই প্রসঙ্গে নম্রতা বলেন, বালুরঘাটে গিয়ে আমার মাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবেন।

নম্রতা জানান, আমি বাংলা ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে চলে যাই। সেখানে গত ডিসেম্বরে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। সেই খরচ আমি দিয়েছিলাম। শুধু তাই নয়, সেখানে দামি একটি ঘড়ি কিনে দিই। সেই ঘড়িটি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি।

নম্রতার দাবি, তার সঙ্গে ১৯বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই বিতর্কিত কমিউনিস্ট নেতা। এবার সিআইডির নজরে এই সাংসদ।

নম্রতার অভিযোগ ছিল, দিন কয়েক আগে তার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে আড়াই লক্ষ রুপি ট্রান্সফার করা হয়। ঋতব্রতের অ্যাকাউন্ট থেকে রুপি পাঠানো হয়েছে।

মুখ বন্ধ রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষতিপূরণ হিসাবে ওই রুপি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নম্রতা।

এই প্রসঙ্গে ওই তরুণী বলেন, দিন কয়েক আগে দূর্বা সেন নামে এক নারী ফোন করেন। তিনি ঋতব্রতের বান্ধবী বলে পরিচয় দেন। বারবার হুমকি ফোন আসতে থাকে। এখন আমি ভয় পাচ্ছি বলে মন্তব্য করেন নম্রতা। টুইটারে সেই সব কথা ও ঋতব্রতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে এনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

এরই মধ্যে দু’টি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তাতে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যাচ্ছে বহিষ্কৃত সিপিএম নেতাকে।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে, ৬ অক্টোবর এই তরুণীর বিরুদ্ধে গড়ফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঋতব্রত। কিন্তু এখন তিনি কোথায়?

এপিবি আনন্দ ও সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সিআইডি সূত্রে দাবি, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গত ৮ অক্টোবর ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট নিয়ে, বিমানে হংকং যান তিনি। ঋতব্রত অন্তত ৮টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি নম্বর এখন সুইচড অফ।

ভবানী ভবন সূত্রে খবর, ঋতব্রত ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীদের সবরকম গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন সিআইডির তদন্তকারীরা।