অর্থনীতি-ব্যবসা আন্তর্জাতিক

বিশ্বব্যাপী বেড়েছে খাবারের দাম : এফএও

বিজনেস ডেস্ক : ২০১৮ সাল ছিল কম দামে খাবার কেনার বছর। দেশে দেশে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রতিকূল আবহাওয়া—কোনো কিছুই খাবারের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি। বছরজুড়ে বিশ্ববাসী কম দামে খাবার কেনার সুযোগ পেয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। গত জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাবারের দাম বেড়েছে। এ সময় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ পয়েন্ট চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মূলত ভোজ্যতেল, চিনি ও আমিষপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের তুলনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এফএও।

এফএফপিআই অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৪ দশমিক ৮ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। তবে আগের মাসের তুলনায় চাঙ্গা হলেও ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ সময় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। গত বছরের জানুয়ারিতে এ সূচকমান ১৬৮ দশমিক ৪ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি ও দুগ্ধপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ সময় খাদ্যশস্যের দামও ছিল বাড়তির দিকে।

টানা দুই মাস আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম চাঙ্গা রয়েছে। এফএফপিআই অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ভোজ্যতেলের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩১ দশমিক ২ পয়েন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে ভোজ্যতেলের গড় মূল্যসূচকের অবস্থান ছিল ১৬৩ দশমিক ১ পয়েন্টে। চাহিদা বেশি থাকায় গত জানুয়ারিতে সয়াবিন তেলের আগের তুলনায় দাম বেড়েছে। রফতানি বৃদ্ধির জের ধরে এ সময় পাম অয়েলের বাজারেও চাঙ্গাভাব বজায় ছিল।

জানুয়ারিতে খাদ্যশস্যের দামও আগের মাসের তুলনায় বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৮ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় সামান্য বেশি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ছিল ১৫৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট। সেই হিসাবে, শুধু ডিসেম্বরের তুলনায় নয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ সয়াবিনের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশে দেশে চলমান খরা পরিস্থিতি দাম বাড়িয়েছে গম ও ভুট্টার। ডলারের বিপরীতে থাই বাথ ও ভারতীয় রুপির দুর্বল অবস্থানে চালের বাজারও আগের মাসের তুলনায় কিছুটা চাঙ্গা ছিল।

এফএফপিআই অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮২ দশমিক ১ পয়েন্টে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এ সূচকের অবস্থান ছিল ১৭৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট। নিউজিল্যান্ড ও ভারতে উৎপাদনে মন্দাভাব ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে রফতানি কমায় এ সময় দুগ্ধপণ্যের গড় দাম চাঙ্গা ছিল। এ সময় আমিষপণ্যের গড় মূল্যসূচক ডিসেম্বরের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল ১৬২ দশমিক ৯ পয়েন্টে। আগের বছরের জানুয়ারিতে এ সূচকমান ছিল ১৬৭ দশমিক ৫ পয়েন্ট।

এদিকে গত জানুয়ারিতে চিনির বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮১ দশমিক ৯ পয়েন্ট, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ২ দশমিক ৪ পয়েন্ট বেশি। তবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চিনির বৈশ্বিক মূল্যসূচকের অবস্থান ছিল ১৯৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট। ব্রাজিলে আখ থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাবাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান— এসব কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

সূত্র : এফএও

ভাষান্তর : বণিক বার্তা

জুমবাংলানিউজ/পিএম