অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

বিশ্বব্যাপী খাবারের দাম আরও বেড়েছে

বিজনেস ডেস্ক : চলতি বছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতেও এ প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এ সময় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, আমিষ ও দুগ্ধপণ্য, চিনিসহ সব ধরনের খাবারের দাম আগের তুলনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচকে। খবর এফএও।

এফএফপিআই অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৭ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেশি। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৮ সালের আগস্টের পর এটিই খাদ্যপণ্যের সর্বোচ্চ গড় দাম। তবে আগের মাসের তুলনায় চাঙ্গা হলেও ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

বিশ্বব্যাপী গত ফেব্রুয়ারিতে সব ধরনের খাবারের দাম আগের তুলনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তবে এ সময় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৯২ দশমিক ৪ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেশি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাড়তি বৈশ্বিক চাহিদার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে তরল দুধের উৎপাদন তুলনামূলক কমে আসার জের ধরে এ সময় মাখন, পনির, ননিবিহীন ও ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধসহ সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যশস্যের দাম আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯ পয়েন্টে। শুধু আগের মাসের তুলনায় নয়, বরং ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে ভুট্টার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা অনেকটা কমে আসায় বাড়তে শুরু করেছে সয়াবিনের দামও। তবে গত মাসে গম ও চালের দামে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। এ সময় ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩৩ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ গড় দাম। শীত মৌসুমের শুরুতে মালয়েশিয়ার বাজারে পাম অয়েলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি। বর্তমানে পাম অয়েলের দাম সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেলের বাজারও আগের তুলনায় অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আমিষ পণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বা দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে আমিষ পণ্যের গড় মূল্যসূচক ৪ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় মাংস উৎপাদন কম হওয়ায় আমিষ পণ্যের মূল্যসূচক চাঙ্গা হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে চিনির বাজারেও। গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যটির বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় চিনির বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৮৪ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ পয়েন্ট বেশি। ব্রাজিলে উৎপাদিত আখ দিয়ে চিনির বদলে জৈব ইথানল উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে দেশটিতে চিনি উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ সম্ভাবনা গত মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম