খেলা-ধুলা

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মেসিকে দেখতে চান ফিফা সভাপতি

২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায়ের পর মেসির কান্নার দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই জার্মানির কাছে হেরেই যখন ট্রফিশূন্য থাকতে হলো মেসিকে এবং এরপর তার সেই শূন্য দৃষ্টি এখনও ভুলতে পারেনি আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। এরপর তো টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনাল। স্বপ্নভঙ্গের বেদনার উপাখ্যান রচিত হয়েছিল। মেসি নামক গ্রহের সেরা ফুটবলারকে শূন্য হাতে ফেরত দিয়েছিল ফুটবল। কিন্তু তার আগেই মেসির পাশে এসে দাঁড়ালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘মেসির আর্জেন্টিনা শুধু বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাই নয় সে ফর্মে থাকলে বিশ্বকাপ জিততেও পারে আকাশি-সাদারা।’

ফিফা সভাপতি বলেন, ‘প্রথমত আমি মেসিকে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় দেখতে চাই। কোন সন্দেহ নেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা মেসি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনও সে। যার অনুপস্থিতি পুরো বিশ্বকাপের আকর্ষণকেই ফিকে করে দিতে যথেষ্ট। মেসি না থাকলে বিশ্বকাপ বাণিজ্যিকীকরণের দিক থেকেও আমাদের বিশাল ক্ষতির মুখোমুখি পড়তে হবে।’ ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি চাই মেসি রাশিয়ায় আসুক, বাঁ পায়ের জাদুতে বিশ্বকে মুগ্ধ করুক।’

বার্সেলোনার এই মহাতারকা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন। পুরো সময় দুর্দান্ত খেলেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায় মেসির আর্জেন্টিনা। ২০১৬ সালে আবারো মেসির চমকে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠে আকাশি-সাদারা। পরে চিলির কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন মেসি। পরে বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত আর দলের প্রয়োজনে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরেন।

লিওনেল মেসিকে বরাবরই দারুন পছন্দ করেন ইনফান্তিনোর। তার মতে, ‘মেসিই বর্তমানে বিশ্বসেরা। তাকে নতুন করে কিছু প্রমাণ করতে হবে না।’ তবে তিনি সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা মেরাডোনারও বিশেষ ভক্ত। তিনি বলেন, ‘মেসিকে ম্যারাডোনার কাতারে যেতে হলে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা প্রয়োজন। তবে এই মেসি অসাধারণ। তিনি সত্যিই বিশ্বকাপ জেতার ক্ষমতা রাখেন।’

ম্যারাডোনার প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ম্যারাডোনা ফুটবলকে সবার কাছে ভালবাসার খেলা হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যে কারণে বিশ্বে ফুটবল নিয়ে এতো উন্মাদনা।’

তবে মেসিদেরও ভয় আছে মেসিদের খেলতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় কিটোতে। এতো উঁচুতে খেলাটা বাইরের যেকোন দেশের জন্য কষ্টকর। রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর থেকে ইকুয়েডরের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের কোন রেকর্ড নেই আর্জেন্টিনার। তবে এই মুহূের্ত জয়ের বিকল্প কোন পথ খোলা নেই আর্জেন্টিনার সামনে।

বুধবার ভোরে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কঠিন লড়াইয়ে নামবে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দলগুলো। বাছাইপর্বে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় স্থানে  উরুগুয়ে ।  এই অঞ্চল থেকে প্রথম চারটি দল সরাসরি খেলবে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলটিকে প্লে-অফ খেলে জিততে হবে ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।