ক্রিকেট (Cricket) খেলাধুলা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু!

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক: চার ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। কাগজে কলমে এখনও সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেই বাদ যাবে। তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিংকে দৃষ্টিকটু হিসাবেও আখ্যা দিয়েছেন।

ডেইলি মেইলে লেখা এক কলামে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো খেলেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করেছে। তবে কার্ডিফে ইংল্যান্ডকে বিন্দুমাত্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি। এ উইকেট সবুজ ছিল, ঘাসে পরিপূর্ণ ছিল, পেসাররা লেন্থ ঠিক রেখে ভালো বল করতে পারতো। কিন্তু তা পারেনি। এছাড়া তাদের ব্যাটিংটাও দৃষ্টিকটু ছিল। যেখানে দ্রুতগতিতে রান তুলতে হতো, সেখানে ব্যাটসম্যানদের রান তোলার গতি ছিল মন্থর। এরকম পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায় না।’

নাসির হুসেনের মতে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানও বাংলাদেশের সাথে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ আসর থেকে বাদ যাবে। তবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চমক হিসেবে রাখলেও ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এ চার দলকে বিশ্বকাপের দাবিদার মনে করেন তিনি।

তবে  বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ পয়েন্ট কম পাওয়াটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না। তিনি মানছেন, ম্যাচটা হলে ব্রিস্টল থেকে জয় নিয়ে টনটনে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে না হওয়ায় যে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড় থেকে অনেক পিছিয়ে গেছে, তা মনে করছেন না তিনি।  বাশার বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, কোনো নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারব না। আমাদের শক্তিশালী দলকেও হারাতে হবে। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের মতো দলের বিপক্ষে খেলা বাকি। সেগুলোতেও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে হবে।’

শুধু লক্ষ্য বেঁধে দিয়েই শেষ করেননি হাবিবুল। তাঁর বিশ্বাস বড় দলকে হারানোর সামর্থ্যও আছে মাশরাফি-সাকিবদের, ‘কাগজ-কলমে হয়তো শ্রীলঙ্কাকে আমাদের পক্ষে হারানো সহজ ছিল। সেদিক দিয়ে হয়তো আমরা একটা পয়েন্ট মিস করেছি। কিন্তু খেলা যেহেতু হয়নি, এখন তো কিছু করার নেই। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। আমার বিশ্বাস অন্য বড় দলকে হারানোরও সামর্থ্য আমাদের আছে।’

আয়ারল্যান্ড সফর থেকেই দলের সঙ্গে থেকে হাবিবুলের উপলব্ধি—এই দলের অন্তত আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। দলের ম্যানেজার আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদেরও একই বিশ্বাস, ‘বিশ্বকাপের জন্য আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। একটি ম্যাচ জিতলেও আমরা কিন্তু এর পরের ম্যাচেও ভালো খেলেছি। ছেলেদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চাই না। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই ওরা পরের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলবে।’

ব্রিস্টলে খেলা না হওয়ায় এখন পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে মরিয়া বাংলাদেশ। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন, হাবিবুলের মতো মাহমুদের চোখও অন্য বড় দলগুলোর দিকে, ‘সব মিলিয়ে আমাদের অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে। ফরম্যাটটা খুব কঠিন। সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের বিশ্বসেরা দলগুলোকে হারিয়েই যেতে হবে। আফগানিস্তানকে তো হারাতেই হবে।’

সেমিফাইনালে যেতে হলে পাঁচটি ম্যাচ অন্তত বাংলাদেশকে জিততেই হবে। তার মানে বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জিততে হবে কমপক্ষে চারটিতে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান ও আরেক সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের কথায়ও লক্ষ্যটা পরিষ্কার, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের পুরো পয়েন্ট নিতেই হবে। সঙ্গে বড় একটা দলকেও হারাতে হবে।’

তবে ব্রিস্টল থেকে পুরো ২ পয়েন্ট নিয়ে যেতে না পারায় একটু আফসোস আছে তাঁর, ‘আমাদের কিছু টার্গেট করা দল আছে, যাদের আমরা হারাতে চাই। আশা ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতব। তবে বৃষ্টির ওপর তো কারও হাত নেই। আইসিসি রিজার্ভ ডে রাখেনি। এ নিয়ে কিছু বলারও নেই।’

না পাওয়ার হতাশা থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যটা যেহেতু অনেক বড়, হতাশা ঝেড়ে ফেলে সামনে তাকানোটাই এখন সময়ের দাবি