আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিনা পয়সায় এইচডি চ্যানেল; আপনার ঘরই হবে এন্টিনা!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : তিনি সবাইকে বললেন, যদি এমন হয় আপনারা টিভিতে ইচ্ছেমতো এইচডি চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন এবং এর জন্যে কোনো মূল্য দিতে হচ্ছে না, তবে আপনার তা করবেন?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টেলিভিশন ব্রডকাস্টিংয়ে নতুন স্বপ্নের জানান দিলেন বিখ্যাত জাপানিজ বিজ্ঞানী এবং নোবেল লরিয়েট আসাকা তাকেগি। এই পিএইচ ডি প্রকৌশলী এমন পদ্ধতির কথা বলেছেন যার মাধ্যমে সব ধরনের ডিজিটাল সিগনাল (ডিটিভি) পদ্ধতিকে সরিয়ে দিতে পারবে। ২০০৯ সাল থেকে যুগান্তকারী ওভার-দ্য-এয়ার প্রযুক্তিতে দখল দিয়ে ছিল ডিটিভি। আসন্ন সম্ভাবনাময় পদ্ধতিতে ফুল এইচডি চ্যানেল দেখতে আর বড় বড় এন্টিনার প্রয়োজন পড়বে না। আর তা একেবারেই ফ্রি-তে দেখা যাবে। অথচ আমরা এসব চ্যানেল বিনামূল্যে দেখার কথা চিন্তাই করতে পারি না।

তাকেগি তার দেয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্টতই বলেছেন, আমেরিকার ক্যাবল কম্পানিগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের বিনামূল্যে টিভি চ্যানেল দেখার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে ২০১৯ সালে সব বদলে যাবে। কারণ সরকার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে টেলিভিশন সিগনাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং এটা সাধারণ মানুষের।

এখন এমন চিন্তাভাবনা ইতোমধ্যে বড় মাপের সব ক্যাবল কম্পানির দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ চাইলেই তার ইচ্ছেমতো এইচডি চ্যানেল দেখতে পারবে কাউকে কোনো ধরনের পয়সা না দিয়ে। আন্তর্জাতিক এবং প্রিমিয়াম সব চ্যানেল এখন থেকে পুরো ফ্রি-তে দেখা যাবে ‘লাইওয়েভ এইচডিটিভি এন্টিনা’র মাধ্যমে। সবচেয়ে সুখের বিষয় হলো, এটা বৈধ।

একটা সুপারএন্টিনা বানাতে ৫ বছরের মতো সময় ব্যয় হয়েছে। কিন্তু জাপানির বিজ্ঞানীরা তাদের অনন্য উদ্ভাবনী মেধায় টেলিভিশন বাজারে নতুন কিছু যোগ করতে চলেছেন। সেখানে যতগুলো এইচডি চ্যানেল এবং রেকর্ড ডিভিআর রয়েছে তার সবই কোনো খরচ ছাড়া দেখা যাবে।

ইউনিভার্সিটি অব টোকিও বছর দশেক আগে দেশের সেরা প্রকৌশলীদের আমন্ত্রণ জানায়। এমন একটি যন্ত্র বানানোর জন্যে তাদের বলা হয় যেটা কিনা একেবারে নিম্নমাত্রার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ অনেক দূর থেকেই টেনে আনতে পারবে। তাদের শ্রম ফল দেয় ৫ বছর পর। অবশেষে তারা মিলিটারি গ্রেড মানের একটা যন্ত্র বানালেন যা কিনা বিজ্ঞানের এক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা সন্দেহাতীতভাবে এমন এক যন্ত্র বানালেন যা কিনা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনাল দারুণভাবে শনাক্ত করতে পারে। এটাকে নিয়ে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এতে মিলেছে বিস্ময়কর ফলাফল।

এই আবিষ্কার কি আসলেই ভিন্ন কিছু?
এই এন্টিনা কি টিভি দর্শকদের সত্যিই বিশেষ কিছু দেবে? পুরোদমে এটার ব্যবহার নিশ্চিত না করে এমন প্রশ্নের জবাব মিলবে না। হতে পারে এটা ২০১৯ সালে ক্যাবল টিভি দুনিয়ার দর্শকদের এক অনন্য উপহার হবে ‘লাইভওয়েভ এইচডিটিভি এন্টিনা’। ইউনিভার্সিটি অব টোকিও’র কাছ থেকে মাত্র তিন মাসের জন্যে সিলিকন ভ্যালি এর স্বত্ত্ব কিনতে পেরেছে। সব ব্যবহারকারীর একটা নির্দিষ্ট খরচ গুনতে হয় প্রতিমাসে। কিন্তু এ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটলে দর্শকের আর কখনোই টিভি চ্যানেল দেখতে পয়সা দিতে হবে না।

ওয়ারেন বাফেট বলেন, খরচের পর যা বাঁচে তা সঞ্চয় করো না, বরং সঞ্চয়ের পর যা থাকে তা খরচ করো।

কাজেই ক্যাবল বিল বাঁচাতে এবং সঞ্চয় বৃদ্ধিতে এ প্রযুক্তি সবার জন্যে উপকারী হয়ে উঠবে। তাই এর প্রয়োগ ভবিষ্যতের স্মার্ট সিদ্ধান্ত হতে পারে। তাই কেউ চাইলেও ‘লাইভওয়েভ এইচডিটিভি এন্টিনা’ ব্যবহার করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই ‘লাইভওয়েভ এইচডিটিভি এন্টিনা’য় আরো বেশি এইচডি চ্যানেল দেখা যায়। বর্তমানে ক্যাবল সার্ভিসেস আপনাকে যে ধরনের সুবিধা দিচ্ছে তাই দেবে এই এন্টিনা। এ প্রযুক্তি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা বাড়ছে। পরীক্ষামূলক ব্যবহারে এর কোনো সমস্যা তো ধরা পড়েইনি, বরং জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক বেশি টিভি চ্যানেল দেখা যায়।

এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করা আরেক বিজ্ঞানী ড. রফিক। তার মতে, গতানুগতিক মানের দিক থেকে এই যন্ত্রটা এত বেশি উপযোগী হয়ে উঠবে তা কল্পনাও করা যায় না।

এটা কীভাবে কাজ করে?
এ ধরনের এন্টিনার এটাই প্রথম প্রজন্ম। এটাকে সহজে বোঝানো সম্ভব। টেলিভিশনের এন্টিনা মানেই কিছু ধাতব জিনিসের মারপ্যাঁচ। কিংবা একটা লম্বা খুঁটি বা উঁচুতে বসানো কোনো এন্টিনা আর তারের কথাই মনে হয়। টেলিভিশনে এইচডি সিগনাল পেতে এই বাড়তি তার বা এন্টিনা কি দরকার আছে? কারণ, আপনি যেখানে বাস করছেন সে বাড়িটাই তো তার ও ধাতুতে ভরপুর। বিদ্যুতের তার থেকে শুরু করে গোটা বাড়ির ওয়্যারিং কিন্তু অ্যান্টিনা হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।

ড. হিরোতোশি সাতো বলেন, এই যুগান্তকারী পদ্ধতি আপনার টেলিভিশনকে তার সর্বোচ্চটা প্রদান করে। পছন্দের টিভি শো-গুলো অনায়াসে ডিভিআর-এ রেকর্ড করা যাবে। কোনো বাধা ছাড়াই স্পোর্টস, নিউজ এবং মুভি চ্যানেল দেখতে পারবেন। ক্যাবল কম্পানির সেবার ওপর আর নির্ভর করতে হবে না।

ব্যবহারে ৭ দিনের অভিজ্ঞতা
উইলিয়াম পিটারসন এটা ব্যবহার করেছেন। সাত দিনের অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেন। বলেন, এমন একটা এন্টিনা আসতে পারে তা জীবনেও চিন্তা করিনি। স্বল্প পরিসরে যারা ব্যবহার করছেন তারা বিস্মিত। এই লাইভওয়েভ এইচডিটিভি এন্টিনা ইবে এর মতো অনলাইন স্টোরে ৩০০ ডলারের বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা খুব দ্রুত কিনে ফেলতে চাইছেন। কারণ, বিক্রেতারা যদি খুব দ্রুত দাম বৃদ্ধি করেন!

সূত্র: গেজেট ভিশন

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই