অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ, বদলে যাচ্ছে জনজীবন

এম রহমান : প্রতিনিয়িত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে পিছিয়ে থাকা একটি জাতির জীবন। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাফল্য আসাতে আজ এই বদলে যাওয়ার চিত্র দৃশ্যমান। দেশে গত নয় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এ খাতে বর্তমানে বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদের শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে এই ব্যাপক সাফল্য এসেছে। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ দিতে চায়।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে। সে সময় বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহার করা যেত মাত্র তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় যা ছিল খুবই কম। ফলে গ্রাম-গঞ্জে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকত না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত ছিল। ব্যাহত হতো শিল্প-কারখানার উৎপাদন। চারদিকে ছিল বিদ্যুতের জন্য হাহাকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন ১০ হাজার মেগাওয়াট ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। আসছে বিদেশি বিনিয়োগ। চলতি মাসেই ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় হাজার মেগাওয়াটের দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৭১টি উপজেলা পুরোপুরি বিদ্যুৎ সেবার আওতায় এসেছে। বাকিগুলো আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানিয়েছে আরইবি।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে ১২১টিতে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ২০০৯ সালে তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে ১১ হাজার ৩০৬ মেগাওয়াট। গত নয় বছরে নতুন করে এক লাখ ৯৫ হাজার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দুই কোটি ৯৯ লাখে পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন। আর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিদ্যুৎ খাতে ৮২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ২২ বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে। এ খাতে আরও গতি আনতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্গম চর ও দ্বীপগুলোতেও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। যেখানে গ্রিড বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে সোলার মিনি গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম