অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

বিদেশি কোম্পানির তামাকে রবীন্দ্রনাথের ছবি ব্যবহারের প্রতিবাদ

জুমবাংলা ডেস্ক: সম্প্রতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনকে মূলত একটি বিদেশী কোম্পানীর টোব্যাকোর ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপন তৈরি করে তা বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারের অভিযোগ করেছে তামাক বিরোধী একটি সংগঠন। এ ছাড়াও রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করে জাপান টোবাকোর এই প্রচারণা বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

‘জাপানে রবীন্দ্রনাথের পথে নতুন যাত্রী তাহসান- অন্যান্য জাপানিজ কোয়ালিটের খোঁজে, নামে একটি ক্যাম্পেইনের বিঞ্জাপন ও টিভি অনুষ্ঠান দেশের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। একই সাথে জাতীয় দৈনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পনসরড বিঞ্জাপন আকারে বহুল ভাবে প্রচারিত হচ্ছে ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে বাংলাদেশের একজন শিল্পি তাহসানের অনুষ্ঠানের ওই বিজ্ঞাপনে জাপান টোব্যাকো তাদের ব্র্যান্ড প্রমোশনের ক্ষেত্রে একই কালার ও স্লোগান ব্যবহার করে। এরপরই বিদ্যমান আইনি বিধি-নিষেধ এড়িয়ে আগ্রাসী প্রচার চালাচ্ছে জাপান টোব্যাকো, এমন অভিযোগ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ওই বিজ্ঞাপনে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে এ ধরনের ব্যাপক প্রচার অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, এই প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে জাপান টোব্যাকোর (জেটিআই) ব্র্যান্ড কালার এবং শ্লোগান ‘জাপানিজ কোয়ালিটি’। জাপান টোব্যাকো তাদের ব্র্যান্ড প্রমোশনের ক্ষেত্রে একই কালার ও স্লোগান ব্যবহার করে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় এই অনুষ্ঠানটি মূলত জাপান টোব্যাকোর ব্র্যান্ড প্রমোশনের জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

জুবায়ের বলেন, ক্যাম্পেনের হুবহু কালার স্কিম ও শ্লোগান ‘জাপনিজ কোয়ালিটিকে’কে জেটিআই সুকৌশলে যে তাদের কাজে ব্যাবহার করছে তার প্রমাণ হচ্ছে জেটিআই দ্বারা বিভিন্ন দোকানে সরবরাহকৃত ‘সাইনবোর্ড’ মাঠকর্মি বা পরিবেশকদের পোশাকে ও পণ্য পরিবেশনের কাজে নিয়োজিত সাইকেল ভ্যানে।

এদিকে রবীন্দ্রনাথকে এ বিজ্ঞাপনের সাথে সংশ্লিষ্ট করায় বিশ্বকবিকে খাটো করা হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন । নাট্যকার এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী বলেন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যদি এটি তামাকের বিঞ্জাপন হয়ে থাকে, তাহলে এটি একটি গর্হিত কাজ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের জাতীয় সংগীত।

এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাথে এটি কোন ভাবেই হয়না। রবীন্দ্রনাথের কোন রকম নেশা ছিলনা। তিনি (রবীন্দ্রনাথ) বলতেন মানুষের একটি মাত্র নেশাই হতে পারে, তা হচ্ছে দেশকে ভালোবাসা। দেশের কল্যাণের নেশা।

উল্লেখ্য, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার কিংবা বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কোনও ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড। সূত্র: বাসস

জুমবাংলানিউজ/একেএ