অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

বাণিজ্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডব্লিউটিও-র সাহায্য চায় বাংলাদেশ

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

আমিনুল ইসলাম মির্জা, বাসস: বাংলাদেশ একটি নিন্ম-মধ্যম দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর বাণিজ্য সংক্রান্ত যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তা মোকাবেলায় ঢাকা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সহায়তা কামনা করেছে।

আজ দিল্লীতে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, গত ২০০৪ সালের সাধারণ সভায় ৫৯/২০৯ ভোটে যে রেজুলেশন গৃহীত হয়েছিল তার আলোকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি লাভের পর যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ডব্লিউটিও-র তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বাণিজ্য মন্ত্রীদের এক বৈঠকে টিপু মুন্সি উল্লেখ করেন, ডব্লিউটিও-র সঙ্গে যেকোন সিদ্ধান্ত, বিধান এবং সমঝোতা চুক্তি উন্নয়নশীল ও স্বল্প উন্নত দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সুযোগ বৃদ্ধির আলোকে হওয়া উচিৎ।

তিনি এসময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক নিশ্চিতে ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিকটতম অতীতে ডব্লিউটিও-র সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না এবং এটি ডব্লিউটিও-র সকল সদস্য দেশ বিশেষত উন্নয়নশীল দেশ সমূহের পূর্ণঙ্গ অংশগ্রহণ সমর্থন করে না।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সভাপতিত্বে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য মন্ত্রী ও ভাইস-মিনিস্টারবৃন্দ এ সময় বক্তব্য তুলে ধরেন। গতকাল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠকের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরু হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, ডব্লিউটিও-র বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী, ট্যারিফ কমিশনের সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ এবং ডব্লিউটিও-র বাংলাদেশের উপপরিচালক মো. খলিলুর রহমান।

বাণিজ্য মন্ত্রী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অবিষ্মরণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং স্বল্প উন্নত দেশ থেকে যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছে তা তুলে ধরেন।

আপিল বিভাগের বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত রেজুলেশন অনুমোদনের কথা উল্লেখ করে টিপু মুন্সি বলেন, বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থায় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-কে বিরোধ নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে মনে করে, যদিও বাংলাদেশ এখনও কোন বিরোধে জড়ায়নি।

তিনি এ সময় অবিলম্বে আপিল বিভাগের খালি পদ পূরণে রাজনৈতিক পর্যায়সহ সকল পর্যায়ের গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ততা থাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

এ ব্যপারে তিনি ডব্লিউটিও সদস্য দেশগুলোর মাঝে নীতিমালা সংরক্ষণে একটি চুক্তির আহ্বান জানান।

ডব্লিউটিও-র ২২ টি উন্নয়নশীল ও স্বল্পউন্নত সদস্য রাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী ও ভাইস মিনিস্টারা দুই দিনের এই বৈঠক অংশগ্রহণ করেন। দেশগুলো হলো, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, বার্বাডোজ, বেনিন, ব্রাজিল, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, চাদ, চীন, মিশর, গুয়েতেমালা, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, জামাইকা, কাজাকিস্তান, মালাউই, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, ওমান, সৌদিআরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক এবং উগান্ডা। সূত্র: বাসস

জুমবাংলানিউজ/একেএ