জাতীয় শেয়ার বাজার

বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসছে বিবিএস কেবলসের আইপিও প্রকল্প

পুঁজিবাজার ডেস্ক : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের অর্থে বাস্তবায়িত আইপিও প্রকল্পে আগামী সপ্তাহ থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে বিবিএস কেবলস লিমিটেড। বর্ধিত প্রকল্প কোম্পানিটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৭ শতাংশ বাড়িয়ে ২২ হাজার ৭০০ টনে উন্নীত করেছে, যা তাদের বার্ষিক বিক্রি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে সক্ষম।

গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জ মারফত বিনিয়োগকারীসহ সবাইকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইপিওর অর্থে প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে তারা। বর্ধিত প্লান্টে শনিবারই উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানির। গত ৩০ জুনের প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির কেবল উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা ছিল ১৬ হাজার ৬০০ টন। এখন তা ৬ হাজার ১০০ টন বেড়ে ২২ হাজার ৭০০ টনে উন্নীত হবে।

২০১৭ সালে আইপিওতে আসে বিবিএস কেবলস। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে কোম্পানিটি বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এ অর্থের বড় অংশ নতুন মেশিনারিজ কেনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করার ঘোষণা দেয় কোম্পানি।

বিবিএস কেবলস মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বৈদ্যুতিক তার সরবরাহ করছে। বিক্রি দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির মুনাফায়ও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তা অনুমোদন করেছেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৮ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২৪ টাকা ৩১ পয়সা।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এ কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় বিবিএস কেবলস। ওই বছর কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। ৩০ জুন ২০১৭ কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৯ টাকা ১৭ পয়সায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বিবিএস কেবলস শেয়ারের সর্বশেষ দর ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বা ৪ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ১১১ টাকায়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা।

বর্তমানে এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩৮ কোটি টাকা। রিজার্ভে আছে ৯২ কোটি ৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩ কোটি ৮০ লাখ; বর্তমানে যার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১১ দশমিক ৯৬, বিদেশী ১ দশমিক শূন্য ২ ও বাকি ৫৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ এজিএমে অনুমোদিত নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩৬ দশমিক ৮৭, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৯ দশমিক শূন্য ৪।

জুমবাংলানিউজ/পিএম