অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

বাজেট পাস ৩০ জুন

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

বিজনেস ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশনটি অধিবেশন শুরু হয়।

অধিবেশন শুরুর দিনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ মন্ত্রী এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জুন বাজেট পাসের পর ১ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন অধিবেশন শুরু হবে বিকেল ৩ টায়। স্পিকার প্রয়োজনে অধিবেশনের মেয়াদ ও সময়সীমা বাড়াতে ও কমাতে পারবেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আনিসুল হক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন।

অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সব এমপি ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘বাজেট অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি সরকারি ও বিরোধী দলের মাননীয় সংসদ সদস্যরা সরকারি আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুচিন্তিত মতামত দিয়ে বাজেটকে আরও বাস্তবমুখী করার ওপর আলোচনা করবেন।’

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার পর পুরো অধিবেশনজুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যেই নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করতে হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়া পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার ৪টি সরকারি দিবস হিসেবে গণ্য হবে। ১৭ জুন সম্পূরক বাজেট আলোচনার পর পাস করা হবে। ১৮ জুন হতে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ও ২৯ জুন এই দুই শনিবার অধিবেশন কার্যক্রম চলবে।

অধিবেশনে শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক এমপি এ বি এম তালেব আলী, আবদুল আলী মৃধা, মো. আব্দুল মজিদ মাস্টার ও এ.কে.এম বজলুল করিম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার ভাসুর ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিক আহমেদ সিদ্দিক, বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজ উদদীন আহমদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দী, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হায়াৎ সাইফ, একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুল সংগীত শিল্পী, গবেষক, স্বরলিপিকার খালিদ হোসেন, কঙ্গোয় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা, বিশিষ্ট কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান, নন্দিত অভিনেতা সালেহ আহমেদ এবং অভিনেত্রী মায়া ঘোষের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। পরে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন

এর আগে অধিবেশনের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠক পরিচালনা করবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, এ বি তাজুল ইসলাম, হাবিবে মিল্লাত, কাজী ফিরোজ রশিদ ও মেহের আফরোজ চুমকি।

বাজেট উত্থাপন
বৃহস্পতিবার বেলা – অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন। এবারের বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকারও বেশী। যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। এবারো ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন ও বক্তৃতা করবেন অর্থমন্ত্রী। এবার তার সাথে যুক্ত হবে একটি ভিডিও চিত্র। ওই ভিডিও চিত্রে বর্তমান সরকারের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক সংসদ ভবনে হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এই দিন সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শুনবেন। সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন পাস হবে। এর আগে চলতি অর্থ বছরের সম্পুরক বাজেট পাস হবে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম