জাতীয় স্বাস্থ্য স্লাইডার

বাজারের ৫২টি খাদ্যপণ্যে ভেজাল পেয়েছে বিএসটিআই, বিক্রি বন্ধ হয়নি

জুমবাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআই যেসব কোম্পানির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেটি ভোক্তাদের রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলার মতো। খবর বিবিসি বাংলার।

রমজান মাস শুরুর আগে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট বা বিএসটিআই।

এরপর সেসব পণ্য বিএসটিআই-এর ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মধ্যে ৫২টি পণ্য ল্যাব পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সরিষার তেল, চিপস, খাবার পানি, নুডলস, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া, আয়োডিন যুক্ত লবণ, লাচ্ছা সেমাই, চানাচুর, বিস্কুট এবং ঘি।

বাজারে ক্রেতাদের কাছে সুপরিচিত বেশ কয়েকটি কোম্পানির পণ্যও রয়েছে এসবের মধ্যে।

বিএসটিআই এসব পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেগুলো এখনো বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার বা জব্দ করার কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

ফলে বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি নামে একটি বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা।

ঢাকার একটি বাজার।

এসব পণ্য জব্দ কিংবা প্রত্যাহারের আদেশ চেয়ে সংগঠনটির পক্ষে আদালতে রিট আবেদন দায়ের করেন সংস্থাটির আইন উপদেষ্টা শিহাব উদ্দিন খান, যিনি হাইকোর্টের একজন আইনজীবী।

তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি এসব পণ্য উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

এসব পণ্য বিএসটিআই-এর পরীক্ষায় পুনরায় কৃতকার্য হওয়ার আগ পর্যন্ত এগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছে বলে মি: খান উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগের শেষ নেই। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ভেজাল-বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক কানিজ ফাতেমা বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো ঢাকার বড় বাজারগুলোতে ভেজাল-বিরোধী অভিযান চালিয়ে থাকে।

এনিয়ে রমজান মাসে যতটা তৎপরতা দেখা যায়, সেটি বছরের অন্য কোন সময়ে লক্ষ্য করা যায় না। এছাড়াও এসব অভিযান বড় শহর কেন্দ্রিক।

মিজ ফাতেমা বলেন, “রাজধানীকেন্দ্রিক বাজারে তারা যতটা তৎপর, রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এবং উপজেলা শহরে এ ধরনের তৎপরতা আমরা দেখি না।”

তিনি বলেন, রমজান যত শেষের দিকে যেতে থাকে, ভেজাল বিরোধী অভিযানও তত স্তিমিত হতে থাকে।

বিএসটিআই-এর নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে ৫২ টি পণ্য মানের বিচারে অকৃতকার্য হবার পরেও কেন সেগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেবার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি?

এনিয়ে বিএসটিআই-এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম