খেলা-ধুলা

বাংলাদেশের তিক্ত এক দিন কাটল হায়দারাবাদ টেস্টে

হায়দারাবাদের অলিতে গলিতে নাকি ক্রিকেট ইতিহাসের ছাপ।

সেই শহরে গতকাল বাংলাদেশ শুরু করল নতুন এক ইতিহাসের পথে চলা। ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্ট শুরু করল গতকাল মুশফিকুর রহিমের দল। তবে এমন দিনটা মোটেও স্মরণীয় হলো না বাংলাদেশের। মুরালি বিজয় ও বিরাট কোহলির দাপুটে দুই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের জন্য তিক্ত এক দিন কাটল হায়দারাবাদ টেস্টে। প্রথম দিনশেষে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৫৬ রান তুলে ফেলেছে ভারত।

অথচ দিনের শুরুটা হয়েছিল স্মরণীয় করে রাখার মতো করেই। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করে ফেরত পাঠিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। বাইরে পড়া বলটা কাট করতে গিয়ে টেনে স্টাম্পে নিয়ে আসেন লোকেশ।

প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টা খানেক বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন ও কামরুল ইসলাম রাব্বি রাস টেনে ধরে রাখেন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের। প্রথম ৫ ওভার শেষে দেখা গেল, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কেবল চারটি স্কোরিং শট করতে পেরেছেন। ষষ্ঠ ওভারে এসে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পেল ভারত; তাও চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে গালি থেকে এলো বাউন্ডারি।

এই রাসটা আলগা করে দিলেন ফিল্ডাররা।

সপ্তম ওভারে পুজারার বল কাভারের ফিল্ডারের একটু সামনে পড়ল, তিন ওভার পর কামরুলের বলে পুজারা স্লিপে ক্যাচ দিলেন—সাকিব ধরতে পারলেন না, মুশফিক চেষ্টাও করলেন না। শুরু হলো একটার পর একটা ফিল্ডিং মিস। এক মিরাজের ওভারে স্লিপে দুটো ক্যাচ পড়ল। মিরাজ নিজে ১৯তম ওভারে একেবারে হাস্যকর রানআউট মিস করলেন পুজারার।

এই ক্যাচ মিস ও রানআউটের সুযোগ হাত ছাড়া করার ফাঁকে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৮ রান যোগ করে ফেললেন পুজারা ও মুরালি বিজয়। পুজারা ১৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেন। মিরাজ তার প্রথম উইকেট হিসেবে ফেরত পাঠালেন তাকে। সেই ক্যাচও মুশফিক ফেলতে ফেলতে ধরলেন। পুজারা আউট হওয়ার পর আসল আতঙ্ক শুরু হলো।

উইকেটে এসে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারলেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। বিজয়ের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি করলেন কোহলি। বিজয় ১০৮ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন। আর দিনে ওটাই শেষ উইকেট পতন। শেষ সেশনটায় বাংলাদেশকে কেবল হতাশা উপহার দিয়েছেন কোহলি।

১৪১ বলে ১২টি চারে সাজানো ১১১ রানে অপরাজিত আছেন কোহলি। অন্য প্রান্তে আজিঙ্কা রাহানে অপরাজিত আছেন ৪৫ রানে।

এখন বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এই হতাশা কাটিয়ে আজ বোলারদের জ্বলে ওঠার জন্য। সেই সঙ্গে ফিল্ডারদের কাছ থেকে একটু সমর্থন আশা করার বিকল্প নেই।

Add Comment

Click here to post a comment