খেলা-ধুলা

বছরে দুটির বেশি বিদেশি লিগ নয়, সিদ্ধান্ত বিসিবির

মাত্র সপ্তাহ খানেক সময়ের ব্যবধানে দুটি বিদেশি লেগে খেলা নিশ্চিত হলো সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমানদের।আরব আমিরাতে টি-টেন লিগে দল পেয়েছেন তিনজনই। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সাকিব আল হাসানকে তার দল পেশোয়ার জালমি ধরে রেখেছিল। নিলামে তামিম ইকবালকে নিয়েছে তারা। মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে রেখে দিয়েছে কুয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

বিশ্বজোড়ে এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ছড়াছড়ি । আইপিএল, পিএসএল, সিপিএল, এসপিএলের মতো টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে সেই সব লিগে অবাধ বিচরণে এবার শেকল পড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। বছরে দুটির বেশি বিদেশি লিগে খেলতে অনুমতি পাবেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি। খবর ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র।

বিবিসির নতুন এই বিধিনিষেধের ব্যপারে ইতিমধ্যে অবহিত হয়েছেন ক্রিকেটাররা। চুক্তিবদ্ধ সকল ক্রিকেটারকেই বিসিবি থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তা। বিদেশি যে কোন ফরম্যাটই হোক না কেন, হতে পারে সেটি টি-টেন, টি-টুয়েন্টি বা ওয়ানডে সবমিলিয়ে বছরে দুটির বেশি খেলার অনুমতি পাবেন না ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের জন্য।

নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা প্রতি বছর দুটি করে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেব। এটি দ্রুতই কার্যকর করা হবে। আমরা তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ইনজুরির ঝুঁকি এড়াতে চাচ্ছি। আমরা আমাদের সকল খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ফিট রাখাটা নিশ্চিত করতে চাই।’

হঠাৎ করেই বিদেশি লিগে ক্রিকেটারদের অনুমতি নিয়ে এই বিধিনিষেধের ভাবনা কবে থেকে শুরু তা ঠিক বলতে চাননি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। তবে ধারনা করা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ক্রিকেটারদের চোট প্রকট আকার ধারণ করেছিল। তামিম ইকবাল একটি মাত্র টেস্ট আর একটি ওয়ানডের বেশি খেলতে পারেননি। মোস্তাফিজকে পাওয়া গেছে শুধু টেস্ট সিরিজে।

২০১৬ সালে আইপিএল মাতানোর পর সাসেক্সে খেলতে গিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সেখানে গিয়ে চোটে পড়ে ছয় মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। এই সময়ে বেশ ক’টি সিরিজ মিস করেছেন কাটার মাস্টার। এমনিতেই বছরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা এখন বেড়েছে। সেখানে বিদেশি লিগে খেলা নিয়ে ব্যস্ততায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি খেলাই হয়না কোনো কোনো ক্রিকেটারের। এসব মিলিয়েই হয়তো বিসিবির এমন সিদ্ধান্ত।

তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাকিব আল হাসান। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তিনিই সর্বাধিক লিগে খেলে থাকেন। ইদানিং অন্য ক্রিকেটারদের সুযোগও বাড়ছে। ক্রিকেটাররা তাই বিসিবির নতুন আইন সহজভাবে নেবেন না এটাই স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমে ক্রিকেটার সব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার বিষয়েও বিধিনিষেধ দিয়েছে বিসিবি। এনিয়ে তাই কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ক্রিকেটারদের।