বিভাগীয় সংবাদ

ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ অতঃপর…

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধলাই নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত স্কুলছাত্রী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ছাত্রী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে প্রায় এক মাস পর বৃহস্পতিবার রাতে কথিত প্রেমিক দেলওয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য পাওয়া যায়।

কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলের হাওর গ্রামের মুসলিম মনিপুরী সম্প্রদায়ের দরিদ্র কৃষক তায়ান উদ্দীনের মেয়ে রাবিনা বেগম (১৬) ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল আদমপুর ইউনিয়নের মাটিয়া মসজিদ এলাকার একই সম্প্রদায়ের মাওলানা আলিম উদ্দীনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৩২)।

গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেলওয়ার রাবিনাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে রেখে রাবিনার পরিবার প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে মেয়ের সন্ধান পাননি।

এরপর স্থানীয় ইউপি ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মৃণাল কান্তি সিংহের সহায়তায় গত ২৪ জুলাই একটি মোবাইল ফোন নম্বর সন্দেহ করে কমলগঞ্জ থানায় নিখোঁজের উপর একটি জিডি করা হয়।

এদিকে গত ১৫/২০ দিন আগে কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রাম এলাকায় ধলাই নদীতে একটি মেয়ের লাশ ভেসে যেতে দেখেন এ গ্রামের মানুষজন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও নদীতে লাশ খোঁজার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় পানিতে লাশটি ভেসে যায়।

জিডিতে সন্দেহজনক নম্বরের সূত্র করে ফোনের মালিক নিখোঁজ ছাত্রীর কথিত প্রেমিক দেলওয়ার হোসেনকে বৃহস্পতিবার রাতে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

থানায় এনে দেলওয়ারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে জানায়, রাবিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে তার একটি আস্তানায় রেখেছিল। এরপর ১৫/২০ দিন আগে তাকে হত্যা করে ধলাই নদীতে ফেলে দেয়।

শুক্রবার কমলগঞ্জ থানায় উপস্থিত থাকলেও ছাত্রীর বাবা তায়ান উদ্দীন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারেননি।

তবে তায়ান উদ্দীনের সঙ্গে থাকা ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মৃণাল কান্তি সিংহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ছাত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার পর থেকে তাকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে তাকে হত্যা করেই লাশ নদীতে ফেলে দেয় ঘাতক দেলওয়ার।

ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খুরশেদ আলী বলেন, রাবিনা বেগম নবম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্রী ছিল। সে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে ১২ জুলাইর পর থেকে আর বিদ্যালয়ে আসেনি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বলেন, এখন এ ঘটনায় নতুন করে ছাত্রীর বাবা তায়ান উদ্দীন বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিচ্ছেন। অভিযোগটিকে হত্যা মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার বিকালে পুলিশের উপস্থিতিতে দেলওয়ার কোথায় ও কীভাবে ওই ছাত্রীকে হত্যা করেছে তা দেখায় বলেও ওসি বদরুল হাসান জানান।

Advertisements