বিনোদন

ফেসবুকে আলাপ, মোবাইলে রিচার্জ, আর রাত হলেই

এমনিতেই জনপ্রিয় এই সোশাল সাইটে মেয়েদের বন্ধু সংখ্যা একটু বেশিই হয়। অনেকেই প্রোফাইল পিকচারে সুন্দরী মডেল বা বিদেশি অভিনেত্রীদের ছবিকে পুরুষ বন্ধু বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। কাজও হয় কিন্তু ! বহু ক্ষেত্রেই এর অপব্যবহারের উদাহরণ মিলেছে। কখনও প্রতারণা তো কখনও আরও ভয়ঙ্কর কিছু। এমনই সেক্স চ্যাট চক্রের খোঁজ পেয়ে খতিয়ে দেখে ইনাডু ইন্ডিয়া বাংলা।খোঁজ নিয়ে সূত্র মিলল একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের। প্রিয়া চ্যাটার্জি (নাম সঠিক নয় বলেই অনুমান)। চ্যাটিং কিছুদূর এগোতেই প্রস্তাব এল। সেক্স কলিংয়ের। রীতিমতো পেশাদারি কায়দায় তৈরি ধাপ ও শর্ত রয়েছে।

কী শর্ত ?

সংশ্লিষ্ট মহিলার নম্বরে ৩০০ টাকার রিচার্জ করে দিতে হবে।

রিচার্জ হয়ে গেলে, সেদিন রাতেই ওই নম্বর থেকে এক মহিলার ফোন আসবে।

তারপর…

“আমার স্বামী মাসের ২৮ দিন নাইট ডিউটি করে। ২ দিনে আমায় খুশি করতে পারে না। তাই তো তুমি…। তুমি যে, আমার বাঁধনগুলো আলগা করবে…।” টাকা রিচার্জ করার পর সেক্স কলিংয়ের এমন অভিজ্ঞতাই হয় আমাদের প্রতিনিধির। কথা প্রসঙ্গে জানা যায় মহিলা বিবাহিত ও কলকাতার বাসিন্দা নন (উনি পুরুলিয়া দাবি করলেও সন্দেহজনক)। স্বামী প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করেন। আর স্ত্রী ? অবৈধ না বলা গেলেও অনৈতিক এই কাজে পারদর্শিতা অর্জন করে ফেলেছেন। পারদর্শী তো বটেই, নয়তো আবেদনপূর্ণ কথাবার্তার পর যখন ওনাকে প্রশ্ন করা হয়, “তুমি প্রেমে পড়ছো না তো?” গলার কণ্ঠস্বর আবেগের খোলস ছেড়ে গাম্ভীর্য সহকারে বলে ওঠে, “না না..সেরকম নয়।” পরক্ষণেই খদ্দের যাতে আগলমুক্ত না হন, তাই নিজেকে সামলে বলে ওঠেন, “তোমায় খুব চেনা লাগে। তোমার ফোনের এত অপেক্ষা করেছি। আর কারোর ফোনের জন্য করিনি।” এখানেই শেষ নয়…

এরা খদ্দেরের ফোন-নম্বর ভাগ করে নিয়ে অন্যদেরও দিয়ে দেয়। অনেকটা BPO/KPO-গুলো যেভাবে কাজ করে। তার প্রমাণ পাওয়া গেল, যখন দেবযানী চ্যাটার্জি (এক্ষেত্রেও নাম সঠিক নয় বলেই অনুমান) নামে অপর এক মহিলার ম্যাসেজ আসে। একই প্রস্তাব। কিন্তু, ফেসবুকে হঠাৎ করে এমন প্রস্তাব। তাও অচেনা লোককে! প্রশ্নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উত্তর জানা যায়। “আমি ফেসবুক, ওয়াটসঅ্যাপ, ফোন, স্কাইপে সেক্স চ্যাট করি। মাসে ২০ দিন। ফুল স্যাটিসফ্যাকশন !” এখানেই শেষ নয়, প্রয়োজনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠাতেও আপত্তি নেই। তবে হ্যাঁ অবশ্যই বিনামূল্যে নয়। সঙ্গে এই শর্তও দেওয়া থাকে, “শারীরিক সম্পর্কে রাজি নই।” রেট এখানেও এক – ৩০০ টাকার মোবাইল রিচার্জ।

কিন্তু, ৩০০ টাকার মোবাইল রিচার্জই কেন ?
হিসাব বলছে, ৩০০ টাকা করে কমপক্ষে ১০ জন যদি জমা করে, তাহলেই একদিনে ৩০০০ টাকার টক-টাইম জোগাড় হয়ে যায়। সূত্রে আরও জানা যায়, Paytm, Pay U Money-র মতো বিভিন্ন ই-কমার্স সংস্থা থেকে ওই টক-টাইম টাকায় পরিবর্তিত করে নেওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও যে কমিশন থাকে, তাতে সন্দেহ নেই। তা না হলে, রিচার্জ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া, বা অন্য মহিলাকে ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া – এগুলো সম্ভব হত না।  কিন্তু, এই কাজ কি দেহব্যবসার সমতুল্য নয় ? “শরীরে ছুঁতে তো দিচ্ছি না,” প্রশ্নে জানিয়েছিলেন প্রথম মহিলা। সত্যি আইনত নয় ! আর বিবেক ? সটান জবাব এল, “ক্ষতি কী ? ঝুঁকি তো নেই।”  সূত্রঃ ঈনাডু ইণ্ডিয়া

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.