খেলা-ধুলা

ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্ডারডগ শ্রীলঙ্কা!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সোমবার থেকে সেন্ট জর্জেস পার্কে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে পুনর্জীবিত দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাই সুস্পষ্ট ফেভারিট হলেও পোর্ট এলিজাবেথের সনাতনী ধীর গতির পীচে শক্তিশালী পেস আক্রমণ যাতে সফল হয় সেটাই এখন প্রোটিয়াদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।
ইনজুরির কারণে ডেল স্টেইন ও মর্নে মরকেল না থাকলেও অপর তিন পেসার ভারনন ফিলানডার, কাগিসো রাবাদা ও কেইল অ্যাবোটের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে গর্ব করতেই পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
শ্রীলঙ্কার অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন-আপ যে এশিয়ার বাইরে নিজেদের মানিয়ে নিতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে সেটাই সহজেই অনুমেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যান্য টেস্ট ভেন্যুর তুলনায় সেন্ট জর্জেসের পিচ অপেক্ষাকৃত কম পেস ও বাউন্স সহায়ক। ১৯৯২ সালে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অগ্রযাত্রার পরে এ পর্যন্ত এখানে ৬টি টেস্টে জয়ী হয়েছে প্রোটিয়ারা। বাকি চারটিতে পরাজয় ও চারটি ড্র হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গানা হেরাথকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা কিছুটা ভীত হতেই পারে। ২০১১/১২সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট জয়ের ম্যাচটিতে ম্যাচ সেরা হেরাথ নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।
এদিকে চলতি বছর তিনজন ভিন্ন ভিন্ন অধিনায়কের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অভিজ্ঞতা বেশ সফলই বলা চলে। এখন অপেক্ষা শেষ ম্যাচটা যাতে ভাল হয়। হাশিম আমলার অধীনে বছরের শুরুটা অবশ্যই মোটেই ভাল যায়নি প্রোটিয়াদের। হোম সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পরে আমলা অধিনায়কত্ব থেকে সড়ে দাঁড়ান। এরপর ভারতের বিপক্ষে ৩-০তে বিধ্বস্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের এক নম্বর টেস্ট র‌্যাঙ্কিং হারিয়ে বসে। মে মাসে পুনরায় রেটিং পয়েন্ট বণ্টনের পরে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান নেমে আসে সাতে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত দুই টেস্টে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে অধিনায়ক মনোনীত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের কনুইয়ের ইনজুরিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে তিনি খেলতে পারেননি। দুটি টেস্টেই অস্থায়ী অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের অধীনে জয়ী হয় প্রোটিয়ারা। এই জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের চতুর্থ স্থানে উঠে আসে দলটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের জন্য এখনো পুরোপুরি ফিট নন ডি ভিলিয়ার্স। জানুয়ারির শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে সিরিজে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণেই অধিনায়কের পদ থেকে সড়ে দাঁড়িয়ে তার স্কুলবন্ধু ডু প্লেসিসকেই এই পদের জন্য সুপারিশ করে যান। ডু প্লেসিসের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ায় দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন। কোচ রাসেল ডমিনগো বলেছেন, ছেলেরা পোর্ট এলিজাবেথে খেলতে পছন্দ করে। এখানকার উইকেটই আমাদের সাথে বেশ মানিয়ে যায়। এটা এমন একটি উইকেট যেখানে রানের জন্য ধৈর্য ধরতে হয়।
স্কোয়াড :
দক্ষিণ আফ্রিকা : ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), স্টিফেন কুক, ডিন এলগার, হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনি, টেমবা বাভুমা, কুইনটন ডি কক, ভারনন ফিলানডার, কেশাভ মাহারাজ, কেইল অ্যাবট, কাগিসো রাবাদা।
শ্রীলঙ্কা : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), ডিনেশ চান্ডিমাল, কুশাল মেন্ডিস, কুশাল পেরেরা, দিমুথ করুনারত্নে, কুশাল সিলভা, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, উপল থারাঙ্গা, দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গানা হেরাথ, লাহিরু কুমারা, নুয়ান প্রদীপ. দুশমন্থা চামিরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, ভিকুম সানজায়া।

Add Comment

Click here to post a comment