জাতীয়

আমার ফুলের মতো মেয়েকে মাটি চাপা দিও না

‘ওরে কবর দিও না। ও একা অন্ধকার কবরে থাকতে পারবে না। তোমরা আমার ফুলের মতো মেয়েকে মাটি চাপা দিও না। আমি ওরে ছাড়া কি নিয়ে থাকব!’

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আফরিদা আহমেদের মা হেলেনা আহমেদের এমন আহাজারিতে সবার চোখ তখন ছলছল। অনেকেই বুকের চাপা কষ্ট সামলাতে না পেরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি তখন। বিকেলেই আঁধারের রূপ নেমে আসে গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে। জানাজা শেষে আফরিদার মরদেহে লাশবাহী গাড়িতে তোলার সময় কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছিল মা হেলেনাকে। লাশের কফিনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আফরিদার মা। মায়ের আহাজারিতে মূর্ছা যাচ্ছিল যেন গাছের পাতারাও।

না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আফরিদাকে এভাবে বিদায় দিতে হবে, তা যেন কেউ-ই মানতে পারছিল না। মানবেই বা কেমন করে! এত উচ্ছ্বাস, এত চঞ্চল মেয়েকে কেউ এভাবে চিরবিদায় দিতে পারে!

চাচাতো ভাই সোহাগ। সবার কান্নায় সেও শরিক তখন। চোখ মুছতে মুছতেই বলে, ‘এভাবে চলে যাবি ভাবতে পারি নাই। এত আদরের বোন আমাদের, কি করে ভুলব তোরে।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কাদে ভর করে বাবা বেনজির আহমেদের অশ্রুসিক্ত আহাজারিতে বুকের পাজর যেন জড়িয়ে আসছিল সবার। মেয়ে হারানো বাবা বেনজির বলেন, ‘ও আমার বড় মেয়ে। কত স্বপ্ন আমার ওকে নিয়ে! কত মেধাবী ছিল! এই জ্বালা আমি সইব কি করে!’

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আফরিদার।

জানাজায় স্বজনদের সঙ্গে মেয়র আনিসুল হকসহ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্বজনরা অংশ নেন। পরে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেটকারে গুলশানে বাড়ি ফিরছিলেন আফরিদা আহমেদ। উত্তরা দিয়ে যাওয়ার পথে পেছন থেকে একটি মিনিবাস আফরিদার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে আহত অবস্থায় বসুন্ধরা এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আফরিদা আহমেদ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা বেনজির আহমেদ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।