জাতীয়

ফুলবাড়ীতে সেই বিতর্কিত এসআই ক্লোজড

ফুলবাড়ী থানার সেই বিতর্কিত উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেনকে ক্লোজড করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে তাকে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) আসাদুজ্জামান  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

১৪ জুলাই ‘তল্লাশির নামে গৃহবধূর বোরকা খুলতে বাধ্য করল এসআই, ফুলবাড়ীতে প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ বিভাগ নড়েচড়ে বসে।

পরে সরেজমিন তদন্ত করেন নাগেশ্বরী সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) আসাদুজ্জামান। তিনি ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই এসআইকে প্রত্যাহার করার জন্য কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে সুপারিশ করেন।

অবশেষে রোববার দুপুরে বিতর্কিত পুলিশের এসআই ইসমাইল হোসেনকে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিতর্কিত পুলিশের ওই এসআই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানায় যোগদান করার পর থেকেই একের পর এক বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে মাদক আটক করার নামে বিভিন্ন অসহায় মানুষকে মামলায় ফাঁসানোসহ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মামলায় নাম ঢুকিয়ে জেল খাটানো ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

সর্বশেষ গত বুধবার উপজেলার পানিমাছকুটি গ্রামের আবুল ফাত্তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও স্বজন ফরিদা পারভিন আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সন্ধ্যায় তারা ঠাকুরপাঠ এলাকায় আসলে ফুলবাড়ী থানার এসআই ইসমাইল হোসেন তাদের অটোরিকশাটি আটক করে শাহানাজ বেগমের শরীরে মাদক বাঁধা আছে বলে অটোর অন্য ৫ জন যাত্রীর সবাইকে নামিয়ে নেন।

এ সময় অন্যান্য নারীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে কাকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও জোরপূর্বক পাশে করিম তেলি নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শাহানাজ বেগমের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে তল্লাশি চালান।

ঘটনার আকস্মিকতায় শাহানাজ বেগম জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে কোনো মাদক তার কাছে না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ খবর ফুলবাড়ীতে ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ শতশত মানুষ দায়ী পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।