অর্থনীতি-ব্যবসা কৃষি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

ফুলবাড়ীতে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা দিশাহারা

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

অনিল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম না থাকায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নেই হাসির ঝিলিক। সেই সঙ্গে ১ মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সরজমিনে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালী ধান কেটে আঁটি বাঁধছেন। মাথায় করে ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়িতে কৃষক-কৃষাণীরা ধান ও খড় রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তারপরেও তিল পরিমাণ হাসি নেই কৃষক-কৃষাণীর মুখে। ধানের দাম না থাকায় হাজারো কৃষক এখন দিশাহারা। সঠিক সময়ে ব্যাংক ও এনজিওতে ঋণ না পেয়ে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে দাঁদন নিয়ে বোরোর আবাদ করেছেন। এখন ধানের দাম কম হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না কৃষকরা। তাই ঋণের জালে আটকে যাচ্ছেন কৃষক। ফলে অনেক কৃষক বাকরুদ্ধ হয়েও পড়েছেন।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল সাত্তার, হোসেন আলী, বাদশা মিয়া ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের দীপু চন্দ্র রায় ও খলিল মিয়াসহ অনেকেই জানান, সেখানে এক বিঘা জমিতে ধান হয় ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ। বর্তমানে ধানের দাম মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ধানের দাম কম হলে কী করে কৃষকের মুখে হাসি থাকবে বাহে! বাহে এক বিঘা জমিতে ধান রোপন করতে খরচ হয় একটু শুনেন বাহে! প্রথমে দেড় প্যাকেট বীজ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, জমিতে হালচাষ মজুরী খরচ ১ হাজার টাকা, দ্বিতীয় হালচাষ ও বীজ রোপন করা মজুরীসহ ২ হাজার ৪০০ টাকা, সেচ ও মেশিন ভাড়া ২ হাজার ৫০০ টাকা, বিভিন্ন প্রকারের সার ও কীটনাশক ঔষধ ২ হাজার ৫০০ টাকা, ধান নিরানী ৫০০ টাকা, সর্বশেষ ধানকাঁটা মজুরী বিঘা প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ধান মাড়াইয়ের ৫০০ টাকা। বিঘা প্রতি কমের পক্ষে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তাহলে দেখেন বাহে, কৃষকরা যদি ধানের দাম না পায় থাকলে কিভাবে কৃষকরা লাভবান হবে। বাহে, শখ করে কৃষকরা ১ মণ ধান বিক্রির টাকা দিয়ে ১ কেজি মাংসের টাকাও হয় না। সেই সাথে ১ মণ ধানের দামে একজন শ্রমিকও মিলে না। যেখানে ধানের মণ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আর ১ কেজি ছাগলের মাংসের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এভাবেই কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পূর্বফুলমতি গ্রামের কৃষক হায়দার আলী জানান, দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। দুই বিঘা বোরো ধানে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। দুই বিঘায় ধান হবে ৩৬ থেকে ৪০ মণ। অর্ধেক ধান দিতে হবে জমির মালিককে। ধানের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাজারেও ধানের কোনও চাহিদা নেই। তাহলে কৃষক কিভাবে বাঁচবে বাহে ! কৃষকদের খবর কেউয়ে রাখে না। যখন ঘরে ধান থাকবে না তখন দাম বাড়বে।

কৃষকরা আরও জানান, এবার সরকার ধান ক্রয় করবে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা করে। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেছেন। কৃষি অফিস কৃষকদের মাঝে সার, বিভিন্ন জাতের বীজ প্রদান করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারে বোরো ধানে রোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েনি। তাই কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

‘গড়ে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ বোরো ধান কৃষকরা ঘরে তুলছেন। তবে ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা হতাশায় ভোগছেন। গুটি কয়েক কৃষক সরকারি মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা মণে ধান বিক্রি করতে পারলেও বরাদ্দ কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন,’ বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ।

জুমবাংলানিউজ/একেএ