অর্থনীতি-ব্যবসা কৃষি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

ফুলবাড়ীতে তামাকের রাজত্বে হারিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য ফসল!

অনিল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকলেও অধিক লাভের আশায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তামাক চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলেছে জাপান টোব্যাকো এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নামে দু’টি কোম্পানি। এই কোম্পানি দু’টির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ উপজেলায় চলতি মৌসুমেও বেড়েছে তামাকের চাষ। অল্প খরচে বেশি লাভে এ অঞ্চলের কৃষকরা তামাক চাষকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি জমি। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রান্তিক কৃষকরা জমিতে তামাক কাটা ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বসত বাড়ির আশপাশ ও রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ ভাবে তামাক শুকানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকার শিশু কিশোররা। বীজ, সার ও অগ্রিম ঋণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ইরি-বোরো ও রবিশস্যের পরিবর্তে তামাক চাষকেই অধিক লাভজনক মনে করছেন কৃষকরা।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, আমরা সাধারণত বাড়ির সাংসারিক কাজ কর্ম শেষ করে অবসর সময়ে তামাক সংগ্রহের কাজ করে থাকি। যখন তামাকের কাঁচা পাতা গুলো বাছাই করে গাঁথি তখন এর গন্ধে খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কি করব ! এ কাজ করে যে টাকা পাই তা আমাদের সংসারে কাজে লাগে। আমরা কষ্ট শিকার করে নিয়েই এ কাজ করি।

উপজেলার কুরুষা ফেরুষা গ্রামের কৃষক পবিত্র চন্দ্র রায় ও সনজিৎ কুমার জানান, তামাক কোম্পানি কৃষকদের মধ্যে অগ্রিম ঋণ, বীজ, সারসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান কররে আসছেন। কৃষি উপকরণের মূল্য অনুযায়ী ইরি-বোরো ধান ও রবিশস্য চাষে আমাদের খরচ অধিক। তামাক চাষে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে তবে খরচ কম লাভ বেশি তাই এ বছর প্রথম তামাক চাষ করেছি। একই কথা জানান কৃষক রুহুল আমিনসহ আরো অনেকেই। এ ব্যাপারে টোব্যাকো কোম্পানির একজন মাঠকর্মী জানান, আমাদের কোম্পানিসহ অন্য কোম্পানি গুলো গত কয়েক বছর এ উপজেলায় তামাক চাষে কাজ করছে। চলতি মৌসুমে কৃষকদের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৫৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। সব কোম্পানি গুলো একই সুযোগ-সুবিধা দেয়।

কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় জানতে চাইলে সনজিৎ কুমার জানান, একর প্রতি অগ্রিম ২ হাজার ৭ শত টাকা, এসওবি ৫০ কেজি সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জুমবাংলাকে জানান, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা তামাক চাষ করা হয়েছে। তামাক অর্থকরী ফসল হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তামাক চাষে জমির কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তবে তামাক কাটার পর বাড়িতে প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে কৃষকসহ শিশুরা শ্রম দিচ্ছে। এতে তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

জুমবাংলানিউজ/একেএ