বিনোদন

ফাঁদে পা বাড়াতেই মহা বিপদে পড়লেন ফেরদৌস

বিনোদন ডেস্ক: ছোট একটি ভুল এতো বড় ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে এটা যেন কল্পনায়ও ছিল না ফেরদৌসের। কলকাতায় ফেরদৌসের বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল। বহু সিনেমা করেছেন এই কলকাতায়, এসেছেনও বারবার। সংস্কৃতি অঙ্গনের যেখানে ডাক পেয়েছেন, সেখানেই তিনি ছুটে গিয়েছেন। বোঝেননি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এই ছুটে যাওয়া তাঁর জন্য কাল হয়ে যাবে!

রাজনীতির পেছনটা না দেখে বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছেন। ভুলটা হয়েছে এখানে, কেন তিনি একজন বিদেশি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে গেলেন? গত রোববার ফেরদৌস তৃণমূলের এক প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে যে ভুলটি করলেন, তা ফেরদৌসকে ভারতে আসার পথ বন্ধ করে দিল। তিনি ভারতের খাতায় কালো তালিকাভুক্ত হলেন। তাঁর সেই ২০২২ সাল পর্যন্ত থাকা ভিসাও বাতিল করে দিল ভারত সরকার।

ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার ফেরদৌস আহমেদের ভিসা বাতিল করে তাঁকে অবিলম্বে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিলে গতকাল রাতেই ফিরে গেছেন বাংলাদেশে। তাঁর ভিসা বাতিল হয়েছে। আপাতত তিনি ভারতে আসা এবং শুটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন না।

ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের অভিযোগ, তিনি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে গত রোববার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ আসনের তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ফেরদৌসের ব্যবসায়ী ভিসার শর্ত ছিল, তিনি ভারতে এসে চলচ্চিত্রে শুটিং করতে পারবেন, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। সেই শর্ত ভেঙে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন। এটাই তাঁর ভুল। আর এ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এলে বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ করে।

তারা প্রশ্ন তোলে, কীভাবে একজন বিদেশি ভারতের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন? এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় কলকাতার অভিবাসন দপ্তর ও বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন দপ্তরে। পাশাপাশি প্রতিবেদন চাওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছেও। অভিবাসন দপ্তর থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর গতকালই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাঁকে অবিলম্বে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এ–সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয় উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপারকে। তারপরেই ফেরদৌস গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশে ফিরে যান।