জাতীয় স্লাইডার

দরিদ্র মেধাবীদের গল্পে কাঁদলেন এডিসি-ইউএনও, পড়লে অনুপ্রাণিত হবেন আপিও

সারাদেশের ন্যায় শেরপুরে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শেষ হয়েছে শনিবার। মেলায় সরকারের উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধারার পাশপাশি ‘সাফল্য গাথা’ শিরোনামে একটি বিশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে এক সময় ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে ফিরে আসার গল্প শোনানো হয়।

অনুষ্ঠানে ঝড়ে পড়া থেকে শিক্ষা জীবনে ফিরে আসা দরিদ্র মেধাবী ৬ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যায়নের গল্প বলেন। দরিদ্রকে জয় করে এবং নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে আসার করুন গল্প শুনে কেঁদে ওঠেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এডিসি-ইউএনওসহ দর্শক-শ্রোতারাও। এ সময় মেলার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

মেলায় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ‘সাফল্য গাথা’ পর্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর, এনডিসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ভারপ্রাপ্ত এডিসি এটিএম জিয়াউল ইসলাম ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সেনা সদস্য মো. শাহিন মিয়া বিএসপি প্রতিষ্ঠিত দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থার (ডপস) ৬ জন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর দারিদ্রের কষাঘাতে পিছপা না হয়ে এবং শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়েও পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে আসার গল্প বলেন।

তারা হলেন, অর্থাভাবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে এক সময়ে টেক্সটাইল মিলে কাজ নিয়ে পরবর্তীতে শিক্ষা জীবনে ফিরে আসা রাসেল মিয়া, বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছেন; কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কামরুজ্জামান কাজি; রং মিস্ত্রির কাজ করা আল আমিন বর্তমানে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত, অর্থাভাবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে পরবর্তীতে শিক্ষা জীবনে ফিরে এসে বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত রমজান আলী, একবেলা আধাবেলা খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করে বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত সাইদুর রহমান এবং দারিদ্রতার চরম কষাঘাতে থেকে এবং বাল্যবিয়ের হাত থেকে বেঁচে ওঠে গত বছর এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে বর্তমানে শেরপুর সরকারি কলেজে অধ্যায়নরত রূপালী আক্তার।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডপস সংগঠনের জন্য জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি