জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাওয়া ছাগল মালিক গ্রেপ্তার

১০০ কেজি ওজনের সেই ছাগলের মালিক ইসমাইল। ছবি- সংগৃহীত

জুমবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাওয়া ১০০ কেজি ওজনের সেই ছাগলের মালিক ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর ইউএনবি।

মঙ্গলবার রাতে মহিষকুন্ডি বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গ্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসমাইল হোসেন তার মা’কে সাথে নিয়ে ১০০ কেজি ওজনের একটি ছাগল প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান এমন একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

পরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের উদাহরণ জানিয়ে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও। বিষয়টি সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। কৌতুহলও জাগে অনেকের মনে। ছাগলটি দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকে।

এলাকাবাসীরা জানায়, বাচ্চা থেকেই লালন পালন করা হলেও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়ার কথাটি আগে কখনও শোনা যায়নি। হঠাৎ করে কথাটি শোনা যাচ্ছে। ইসমাইল ও তার মা কেন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীকে ছাগল উপহার দিতে চান তা নিয়েও তাদের মনে প্রশ্ন জাগে।

এদিকে পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাগল উপহারের উদ্যোক্তা ইসমাইল একজন চা বিক্রেতা। স্থানীয় বাজারে তিনি চা বিক্রি করেন। মা লতিফুননেছা ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে ইসমাইল একই বাড়িতে থাকেন। চা বিক্রি করে সে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। ইসমাইল একজন মাদক ব্যবসায়ী। সে চায়ের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মোটরসাইকেল যোগে মাদকসেবীরা তার দোকানে এসে মাদক ক্রয় ও সেবন করে। এর আগে ইসমাইল ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল ও তার নামে দৌলতপুর থানায় মাদকের মামলা আছে বলেও জানা যায়।

এ ব্যাপারে ইসমাইল জানান, ‘ছাগলটি তার বাড়িতে জন্ম হয়েছে। তার মা ছাগলটি লালন পালন করেন। তিনি ও আমার মা ১০০ কেজি ওজনের এই ছাগলটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান।’

মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে ইসমাইল জানান, ‘আমি মাদক ব্যবসা করিনা। আমার চা একটু ভাল হয়, তাই বিভিন্ন জেলা বা থানা থেকে লোক আসেন।’

অভিযোগ উঠলে দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম ও থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রায় ১০ দিন তদন্তের পর বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ওই দল মহিষকুন্ডি বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, তার নামে মাদকের একটি মামলা রয়েছে। তিনি মামলায় পরোয়ানা ভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই কোন কৌশল করেও মাদক ব্যবসায়ীরা বাঁচাতে পারবে না।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো তদন্ত চলছে। সে মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : ইউএনবি

জুমবাংলানিউজ/এসওআর