অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

কথিত পীর পেয়ারের অজানা তথ্য ফাঁস

পর্নো ভিডিও ধারণ করে নারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কথিত পীর আহসান হাবীব পেয়ারকে (২৮) নিয়ে তার জন্মস্থান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়ও চলছে আলোচনা সমালোচনা। গত ১ আগষ্ট তাকে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার তিলপাড়ার ৮১৯/এ এর ফ্ল্যাট থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সংস্থা তাকে গ্রেফতার করে।

জানা যায়, যে ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় সে ফ্ল্যাটটি পেয়ার গত বছর তিনেক আগে ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করে। এছাড়া ওই ফ্ল্যাটের নিচে রাখা তার মালিকানাধীন ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি নোয়া ব্রান্ডের মাইক্রোবাসের সন্ধান পান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনিই তাকে নিয়ে একের পর এক চমকপ্রদ প্রতিবেদন আসছে দেশের শীর্ষ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায়। আলোচিত সমালোচিত আহসান হাবীব পেয়ারের জন্ম নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোটে।

স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, তার বাবা ছিলেন একজন হাক্কানী আলেম। তিনি কোথাও কুট্টি মাওলানা নামে আবার কোথাও বোডে মাওলানা নামে পুরো উপজেলায় পরিচিত। কুট্টি মাওলানা মোট তিনটি বিয়ে করেন। তার মোট ৮ ছেলে ৯ মেয়ের মধ্যে পেয়ার ছিল সবার ছোট।

গত কয়েক বছরে তার অর্থনৈতিক এমন উত্থানের পরও সে কখনো তার অন্যান্য ভাই বোনদের সহযোগিতা করতো না বলে দাবী করেছেন তার ভাইয়েরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তার বাবা মারা যান। তার ভাইয়েরা কেউ রিকশা চালক, কেউ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পেয়ার শিশুবেলা থেকে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষ করে চট্রগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসাতে পড়া অবস্থায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে সে ঢাকাতে পড়াশোনা করার জন্য যায় এবং পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেয়।

পেয়ার খুব বাকপটু এবং আকর্ষনীয় চেহারার অধিকারী হওয়ায় সহজেই মানুষকে আয়ত্ত্ব করে ফেলতে পারতো বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাকে পীর বলা হলেও তার এলাকার মানুষ তাকে পীর বলতে নারাজ।

তারা বলেন, সে কখনো এলাকায় পীরগিরি দেখাননি। তবে সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে ভালবাসতো। এক সময় সে নিজেকে ইসলামিক টেলিভিশনের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিত। পরে সে ইউটিউবে এ এইচ পি টিভি নামক টিভি চ্যানেল খুলে নিজেকে টেলিভিশনের মালিক বলে দাবী করতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এলাকায় তার এক বন্ধু জানান, পেয়ার সবসময় পাগড়ী পরে থাকলেও সে ঠিকমত নামাজ আদায় করতো না। এমনকি গত রমজান মাসেও তাকে সে রোজা রাখতে দেখেনি। ফেসবুকে তার ৩ লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকায় সে নিজেকে ফেসবুক সেলিব্রেটি বলে গর্ববোধ করতো। পেয়ারকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে বলে তার বন্ধুরা জানান।