Default আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর পাঁচ কমবয়সী কেটিপতি যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অনেকেই হয়তো নিজের মাল্টি মিলিয়ন ডলার কোম্পানি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি! কেউ কেউ অনেক কাঠখোর পেরিয়ে হয়তো সফলও হয়। তবে তা সম্ভব হয় একটি নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় বার্ধ্যক্যে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক কিশোর কিশোরী রয়েছে যারা হাই স্কুল পেরোবার পূর্বেই বনে গেছেন মিলিয়নার। না, সিনেমা বা নাটকের খুদে অভিনেতাদের কথা বলছি না। এরা এমন সব কিশোর কিশোরী যারা ২০ পেরোনোর আগেই বনে গেছেন সফল উদ্যোক্তা এবং আয় করে ফেলেছেন মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের মাল্টি মিলিয়ন ডলার কোম্পানি। তো জেনে আসা যাক পৃথিবীর সবথেকে কমবয়সী মিলিয়নারদের সম্পর্কে ।

বেন পাস্টারনেক
স্কুল কলেজ পালানো বা ড্রপয়াউট হওয়া ছাত্ররা সফলতার শিখরে যায়। তবে তা সব ক্ষেত্রে সত্য না হলেও বেন পাস্টারনেকের ক্ষেত্রে সত্য। এই হাই স্কুল ড্রপআউট মাত্র ১৫ বছর বয়সেই একজন সফল টেক টাইকুনে পরিণত হয়েছেন। বেন এর কোডিং এ দক্ষতা তাকে এনে দিয়েছে এই সাফল্য। বেন এর তৈরি করা দুইটি এপ গুগল প্লে স্টোরে টপ ৩০ এর মধ্যে জায়গা পায়। যা তাকে সুনামের পাশাপাশি এনে দেয় ইনভেস্টমেন্ট এবং এরপরে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ভিডিও চ্যাট এপ মানকি তৈরি করেন। ২০১৭ সালে তিনি মানকি হল্যান্ড কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করে দেন। বেন এর মোট সম্পদের পরিমান দুই মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বেন নিউইয়র্কে বসবাস করছে এবং তার নতুন প্রজেক্টে কাজ করছে।

এলিনা মোরস
ছোটবেলা থেকেই চকলেট পছন্দ করত এলিনা। ৭ বছর বয়সে এলিনাকে একদিন এক ব্যাংকের ক্যাশিয়ার একটি ললিপপ দেন। ললিপপ প্রিয় হলেও এলিনা জানতেন ললিপপ দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। তাই এলিনা এমন এক ললিপপ তৈরির কথা চিন্তা করে যা দাঁতের কোনো ক্ষতি করবে না। এলিনা এবং তার মা ও দাদী মিলে চিনির বদলে অন্যান্য প্রকৃতিক উপাদান দিয়ে এমন এক ললিপপ তৈরিতে সফল হয় যা দাঁতের ক্ষতি করবে না। এলিনা এই ললিপপের নাম দেন জলিপপ। এলিনা নিজ স্টেটে জলিপপ বাজারজাত করতে করতে সফলতা পায় এবং তার এই সাফল্য ইনভেস্টরদেরকে আকৃষ্ট করে। ইনভেস্টমেন্ট পেয়ে এলিনা পুরো মার্কিন মুলুকব্যাপি তার জলিপপ বাজারজাত করে এবং প্রথম বছরের প্রায় ২ মিলিয়ন জলিপপ বিক্রি হয়। ২০১৮ সালে এলিনা এর জলিপপ এর বিক্রি বেড়ে প্রায় ৮ মিলিয়নে দাড়ায়। এমনকি জলিপপ এতটাই জনপ্রিয় যে এখন আমাজন এবং অন্যান্য অনলাইন স্টোরের জলিপপ বিক্রি হয়। এলিনার সম্পদের পরিমান প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার।

নিক ডি আলুসিও
সিলিকন ভ্যালির এই প্রোগ্রামার মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিং শুরু করে। যা তাকে পরবর্তী সময়ে সাফল্য এনে দেয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিক নিজের অ্যাপ “সামলি” তৈরি করে। এই অ্যাপে নিক এমন এক এলগরিদম ব্যবহার করে যা যেকোনো বড় আর্টিকেল, বই বা ম্যাসেজ এর মূল অংশটুকু খুঁজে বের করে এবং ব্যবহারকারীকে ওই আর্টিকেলের শুধু সামারি দেখায়। এই অ্যাপটি খুব সহজেই ব্যস্ত মানুষ এবং তারকাদের আকর্ষণ করে। ২০১১ সালে নিক এই অ্যাপটি আরো ডেভলপ করে এবং ইয়াহু এর কাছে ৩০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে নিক অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্সে অধ্যয়নরত রয়েছে।

এসলি কোয়ালস
এসলি খুব কম বয়সেই ওয়েবপেইজ ডেভলপিং ল্যাংগুয়েজ এইচ টি এম এল শিখে ফেলে। এর সঙ্গে তার নিজের ডিজাইন এর প্রতিভা যোগ করে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নিজের ওয়েবসাইট “হোয়াটেভার লাইফ ডট কম” তৈরি কর। তার অসাধারণ ডিজাইনে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই এসলিকে দিয়ে নিজেদের ওয়েবপেইজ এবং মাইস্পেস প্রোফাইল ডিজাইন করে। যেখান থেকে তিনি গুগলের নজরে আসে। ১৬ বছর বয়সেই গুগল থেকে এসলি এড ডিজাইনের অফার পায়। সেখান থেকেই এসলি তার প্রতিভার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আয় করা শুরু করে। বর্তমানে এসলির সম্পদের পরিমান প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার।

টেইলর রোজেনথাল
খেলাধূলা প্রিয় টেইলর ১৪ বছর বয়সে অনুধাবন করেন ফার্স্ট এইড বক্স বা কিট না থাকার কারণে খেলাধুলারত অবস্থায় আহত হওয়া শিশু কিশোররা দ্রুত মেডিকেল সাহায্য পায় না যা অনেক ক্ষেত্রে বড় ইঞ্জুরিতে পরিনতি লাভ করে। তাই টেইলর তার পিতার সাহায্য নিজের কোম্পানি “রেকমেড” প্রতিষ্ঠিত করে। রেকমেড যুক্তরাষ্ট্রব্যাপি স্কুল কলেজ বা যেকোনো খেলার মাঠের পাশে ফার্স্ট এইড কিট এর ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করে। যেখান থেকে খুব সহজেই কোনো আহত কিশোর যেকোনো ফার্স্ট এইড কিট সল্পমূল্যে কিনে নিতে পারবে। টেইলরের এই ব্যবসা সফলতা পায় এবং বর্তমানে রেকমেড এর মূল্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার ।

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই