জাতীয়

পিডিবি’র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর পাজেরো গাড়ি!

জুমবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারীর কাছ থেকে একটি পাজেরো জিপ গাড়ি উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২৮২৭ নম্বরের গাড়িটি আটক করে দুদক টিম।গাড়িটি আটকের সময় চালক মো. আবুল হোসেন জনি এবং নিরাপত্তা প্রহরী মো. সামছু মিয়া ঘটনাস্থলে ছিলেন।

সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া (অবসরোত্তর ছুটি ভোগরত) নকশা ও পরিদর্শন পরিদপ্তরের স্টেনো টাইপিস্ট পদের কর্মচারী। তিনি কর্তৃপক্ষকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করে ওই প্রতিষ্ঠানের একটি পাজেরো জিপ ব্যবহার করছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে নামে দুদক।

অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে গাড়িটি ২০০৯ সাল থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির পেছনে গত ৯ বছরে জ্বালানি তেল, মেরামত এবং গাড়িচালকের বেতন বাবদ প্রায় সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কোনোভাবেই ফুল টাইম গাড়ি পাবেন না। এ ধরনের আইন অমান্যতা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করার শামিল, যা ছোট দুর্নীতি থেকে বড় দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে। দুদক শিগগিরই এ ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে আইনানুগ পথে অগ্রসর হবে।

অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, প্রতিমাসে গাড়িটির জন্য ডিজেল বরাদ্দ হয় ৪৫০ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হারে প্রতি বছরে জ্বালানি বাবদ ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে ডিজেল খরচ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মাসের ড্রাইভারের বেতন বাবদ ৪১ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত এ গাড়ির চালককে ৩৭ লক্ষাধিক টাকা বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া গাড়িটির পেছনে প্রতিমাসে ১০ লিটার মবিল এবং মেরামত ব্যয় হয়েছে। দুদক টিম আরও জানতে পারে, গাড়িটির লগ বইয়ে আলাউদ্দিন মিয়া স্বাক্ষর করেন না, করেন পিডিবি’র একজন কর্মচারী।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড