জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রাজশাহী

পাসপোর্ট অফিসের সাবেক এডিকে কুপিয়ে জখম, ২৩ জনের নামে চার্জশিট

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক (এডি) শাজাহান কবিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দীর্ঘ আট মাস পর চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ।

আহত সাবেক সহকারী পরিচালক (এডি) শাজাহান কবির

এতে বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও শহর যুবলীগের দফতর সম্পাদক মোস্তাকিম রহমানসহ যুবলীগের ২৩ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মোস্তাকিম রহমান রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আদিল জাকারিয়া, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান জীবন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাসেল মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ জনি, যুবলীগ কর্মী শান্ত বেপারি, শহর যুবলীগের সদস্য কাফি, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সীমান্ত ও শহিদুল ইসলাম, শহর যুবলীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আজমিরে খোদা নোমান, মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার হাবিবুর রহমান রনি ও খড়ি শুভ, চককানপাড়ার নুর আরাফাত শুভ ও নূর মোকাদ্দি অনু, মালগ্রাম চাপড়পাড়ার নবিন ও মোহাম্মদ মনির, সূত্রাপুরের মফিজ উদ্দিন লেনের আদনান হোসেন, খান্দার বিলের পাড়ার বেলাল হোসেন ও মিলু মন্ডল, কাটনারপাড়ার সোহাগ হোসেন, ঠনঠনিয়া হাড়িপাড়ার হারুন অর রশিদ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রনি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ যুবলীগ নেতা মোস্তাকিম রহমানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা অফিসে ঢুকে এডি শাজাহান কবিরকে হুমকি-ধামকি দেয়। পরদিন ২৯ মার্চ দুপুরে তিনি (এডি) শহরের খান্দার এলাকার অফিস থেকে রিকশায় শাকপালা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। কৈগাড়ি বিভাগীয় বন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার ওপর চড়াও হয়। তিনি প্রাণভয়ে বন কার্যালয়ের একটি কক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। তার চিৎকারে পাশের মসজিদ থেকে মুসুল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে শাজাহানকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী শাজেনুর রহমান ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই জুলহাজ উদ্দিন জানান, এজাহারে ১১ জনের নাম থাকলেও তদন্তে আরও ১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ৯ জনের মধ্যে হাবিবুর রহমান রনি আদালতে ও মোস্তাকিমসহ অন্যরা পুলিশের কাছে হামলার কথা স্বীকার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

জুমবাংলানিউজ/একেএ