খেলাধুলা

পাকিস্তানের কাছে হারের পরও সেমি ফাইনালে বাংলাদেশ

শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৭ রান বিপরীতে বাংলাদেশের ১ উইকেট।চাপকে সামাল দিয়ে পাঁচ বল হাতে থাকতেই বাংলাদেশকে ১ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯। তবে এ জয়ও তাঁদেরকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের পরও নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে শীর্ষ দল হিসেবে চলতি অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের যুবারা।

এশিয়া কাপে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য বাঁচা-মরার ম্যাচে ২৩১ রানের লক্ষ্যে শুরুটা দারুণ করে পাকিস্তানের যুবারা। মোহাম্মদ জাঈদ আলমের দূর্দান্ত মারকুটে ব্যাটিংইয়ের সাথে মহসিন খানের দেখে-বুঝে খেলার ফলে লক্ষ্য তাড়া করার দিকে ঠিকভাবে এগোতে থাকে তাঁরা। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা আফিফ ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকা জাঈদকে সরাসরি রান আউট করে ভাঙ্গেন পাকিস্তানের ৮৬ রানের জুটি।

এরপর পাকিস্তানের রান যখন ৯০ তখন দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে পাকিস্তানের। দ্রুত দুই উইকেটের পতনের পর কিছুটা টনক নড়ে ম্যাচে। খেলার সময় দৈর্ঘ্য বাড়ার সাথে সাথে নিজেদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে চেষ্ঠা করতে থাকে টাইগাররা। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৮ রান যোগ করে শফিক ও নাসির আবারো টাইগার ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেন। এ যাত্রায়ও বাংলাদেশের ত্রানকর্তা হিসেবে নিজেকে মেলে ধরে আফিফ ফেরান ৩০ রান করা শফিককে। এরপর নাসির ও ওয়াকারকে শাখাওয়াত ফিরিয়ে দিলে ২০১ রানের সময় ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯ দল। চাপটাকে আরো বাড়িয়ে দেয় রায়ান রাফসান ৩৩ রান করা আসিফকে রান আউটের ফাঁদে ফেলে। তবে কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে শেষ উইকেট জুটিতে হাসনাইনকে সাথে নিয়ে ৫ বল বাকী থাকতেই জয়ের বন্দরে দলকে পৌঁছে দেয় সাড খান। সমান ১ চার ও ছয়ে ২৯ বল মোকাবেলায় ম্যাচ জয়ী ১৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

বাংলাদেশের যুবাদের মধ্যে আফিফ ও শাখাওয়াত দু’টি  করে এবং সাইফ হাসান একটি উইকেট শিকার করেন।

এর আগে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ইনিংসটা ধীর গতিতে শুরু করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান ও মাহিদুল ইসলাম। ২০তম ওভারের মধ্যে স্কোরবোর্ডে ৭৪ রান যোগ করতেই আউট হয়ে যান এ দুজন। এরপর দ্রুতগতিতে কয়েক উইকেট হারালেও দলের হাল নিজ কাঁধে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন মোহাম্মদ রাকিব ও আফিফ হোসাইন।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে মূল্যবান ৭৭ রান যোগ করে এ দুই তরুণ। শেষদিকে দ্রুত গতিতে ঝড়ো ব্যাট চালাতে গিয়ে ৪৩তম ওভারে দলীয় ১৭৭ রানে মোহাম্মদ মহসিনের হাতে তালুবন্দী হওয়ার আগে ৮ চার ও ২ ছয়ে  ইনিংস সেরা ৮০ রানের মনোমুদগ্ধকর ইনিংস খেলেন আফিফ। এরপর অনিক, আমিনুলদের সাথে রাকিবের ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে টাইগাররা। তবে ৪৮তম ওভারে আফ্রিদির করা চতুর্থ বলে রাকিব ২১৭ রানের সময় ব্যক্তিগত ৪২ রানে আউট হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত এক বল বাকী থাকতেই ২৩০ গুঁটিয়ে যায় যুবারা।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে আফ্রিদি, হাসনাইন, নাসির ও উমর প্রত্যেকে দু’টি করে উইকেট লাভ করেন। তাছাড়া সাদ খান ৩ ওভার বল করে ১ টি উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলঃ ২৩০-১০ (৪৯.৫ ওভার)
আফিফ ৮০, রাকিব ৪২; নাসির ১১/২, উমর ৩২/২

পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯ দলঃ ২৩৩-৯ (৪৯.১ ওভার)
আলম ৫০, নাসির ৪৫; আফিফ ৩৭/২, শাখাওয়াত ৪৩/২

আরও পড়ুনঃ যে গাড়ি দেখলে আপনার মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে যাবে (ভিডিও)

জুমবাংলানিউজ/এসএস