অপরাধ/দুর্নীতি

পাওনাদারকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা!

অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে সিরাজগঞ্জে কলেজ ছাত্রী হত্যাকাণ্ডের। ঘটনার ৬দিন পর আদালতে নিহত ছাত্রীর মা ও বোন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় এই রহস্য উন্মোচন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার কলেজ ছাত্রীর মা ও বোন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার জন্য কলেজ ছাত্রীর বাবা ও ২ ফুফাতো ভাইকে দায়ী করেছে।

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম তাদের জবাববন্দি রেকর্ড করেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান।

তিনি আরও বলেন, ঋণগ্রস্থ সাইদুর রহমান বাদল পাওনারদের ফাঁসানোর জন্য ২ ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে নিজের কলেজ পড়ুয়াকে মেয়েকে হত্যা করেছে। যখন বুঝতে পেরেছে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাবে তখনই সেও আত্মহত্যা করেছে।

নিহত কলেজ ছাত্রী সাথীর মা মনোয়ারা বেগম ও বড় বোন সুমি জবাববন্দিতে আরও বলেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাদল তার স্ত্রীকে নিয়ে টাকা ধার নেয়ার জন্য পাশের গ্রামে যায়। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখেন বাদলের ২ ভাগ্নে জিন্না ও জিল্লু তাদের বাড়িতে অপেক্ষা করছে।

এ সময় বাদল তার ছোট মেয়ে সাথীকে বাড়িতে রেখে তাদের ৩জনের জরুরী আলোচনা আছে জানিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও বড় মেয়ে সুমিকে আবারও বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারা পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অপেক্ষা করার পর গভীর রাতে আবার বাড়ি ফিরে সাথীর খোজ করলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে সাথীর লাশ দেখায় বাদল।

ভয়ে প্রথম দিকে তারা এ কথা কাউকে না জানালেও ২য় দিন মেয়ের দাফন ও জানাযা শেষে বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রীর জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করে বাদল।
তখন স্ত্রী মনোয়ারা তাকে পুলিশের কাছে আত্মসর্মপন করতে বললে সেখানে গেলে তার ফাঁসি হবে জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে বাদল আত্মহত্যা করে বলে জবানবন্দিতে বলেছেন তারা। জবানবন্দি গ্রহনের পর মা মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন জানান, প্রথম থেকেই বিষয়টি আমাদেরও সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিশ্চিত না হওয়ায় এবং বাবা হওয়ার কারনে বাদলকে শুরুতেই আইনের আওতায় আনা যায়নি। এই মামলায় অন্য দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার জগতগাতি গ্রামের সাইদুর রহমান বাদলের মেয়ে কলেজ ছাত্রী সাথী খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে গত সোমবার সকালে বাড়ীর পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর নিহত কলেজ ছাত্রীর মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর কলেজ ছাত্রী সাথীর বাবা সাইদুর রহমান বাদল কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে দ্রুতগামী ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

পেশায় আদম ব্যাপারী বাদল এলাকার ও আশপাশের গ্রামের অনেককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ৮/১০ লাখ টাকা নিয়েছিল। সেই ঋনের টাকার জন্য পাওনাদাররা তাগিদ দেয়ায় পাওনাদারদের ফাঁসানোর জন্য বাবা হয়ে নিজের মেয়েকে হত্যার পথ বেছে নেয়ার এ ঘটনাটি সিরাজগঞ্জে বেশ আলোচিত হচ্ছে।