চট্টগ্রাম জমিজমা সংক্রান্ত জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

পটিয়ার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতার অভিযোগ!

13934761_1472590649433081_9023483758319373927_n.jpgনিজস্ব প্রতিবেদক: পটিয়ার গৈড়লার কেপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যের ভুমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে পাশে অবস্থিত বাবুল ভট্টাচার্য ও তাঁর ভাইদের জমি দখল করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশের জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলার কারণে উভয়পক্ষকেই জমিটির ব্যবহার বন্ধ রাখার জন্য আদালত নির্দেশ জারি করেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে জমির চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। আদালতের নির্দেশের কথা তাকে জানানো হলে শহীদুল ইসলাম বাবুল ভট্টাচার্য ও তার ভাইদের ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শংকর সেনগুপ্ত বলেন, এটি বিদ্যালয়ের জমি। তাই ভূমিদস্যুতা বা দখলের বিষয়টি সঠিক নয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রণবীর ঘোষ বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে বলে জানি। আমার আগে সাতজন চেয়ারম্যান এটার মীমাংসা করতে পারেননি। তবে তারা পারেননি বলে যে আমি পারবো না, তা নয়। উভয়পক্ষ আমার কাছে আসলে অবশ্যই একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছতে পারবো।

গৈড়লা কেপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ঘোষ পরিবারের সম্পত্তির ওপর তৈরি করা হয়েছে। ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই জমি ব্যবহার করে আসছে। তবে এটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। আমি তাদের বলেছি, স্কুলটি এলাকার সবার। তাই মামলা বাদ দিয়ে তাদেরকে ২/৩ লাখ টাকা দিয়ে দিবো। এছাড়া তাদেরকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম অর্ন্তভূক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে বাবুল ভট্টাচার্য ও তাঁর ভাইয়েরা বলেন, এটি আমাদের বাবার সম্পত্তি। এটা বেদখল থেকে উদ্ধারের জন্য আমরা মামলা করেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারে, তবে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু যদি না দেখাতে পারে, তবে আমাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হউক।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সুতিকাগার চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গৈড়লা গ্রামে প্রায় ৫ একর জমির উপর এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে আরাকান সড়কের গৈড়লার টেক নেমে মাত্র ১০ মিনিটের পথে জমিদার সদানন্দ ঘোষের বাড়ীর পার্শ্বে তারই দানকৃত জমিতে বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে স্থাপিত করেন তৎসময়ের প্রজাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে।

উল্লেখ্য যে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি অনুমোদিত হয়েছিল। এই প্রাচীন জনপদে শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে অবদান রেখে আসছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।