জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

নীলফামারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারের সোনারায় ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কর্মসূচির উপকারভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়নের ফার্মহাট এলাকার ডিলার মজিবুল হক প্রতি ৩০ কেজির বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি করে চাল কম প্রদান করেছেন। এছাড়া প্রতিটি বস্তার মূল্য বাবদ ১০ টাকা করে আদায় করছেন কার্ডধারীদের কাছ থেকে।

বুধবার ওই চাল বিতরণকালে এসব অনিয়ম এলাকাবাসীর কাছে ধরা পড়ে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তদন্ত করে সেটির প্রমাণ পেয়েছেন।

ইউনিয়নের পূর্বখাটুরিয়া জাল্লির মোড় গ্রামের উপকারভোগী আনোয়ার হোসেন (৩৬) বলেন, চাল নিতে গেলে ৩০ কেজি ওজনের কথা বলে আমাকে একটি বস্তা দেয়। পরে বস্তাটি ওজন করে দেখি দুই কেজি চাল কম। এছাড়া খাদ্যগুদামের সরবরাহ করা ওই বস্তাটি বিনা মূল্যে প্রদানের কথা থাকলেও বস্তা বাবদ ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন ওই গ্রামের আয়নাবি বেওয়াসহ (৫৫) অনেকে। তারা জানান, প্রতিটি বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি পরিমাণ চাল কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হলে তিনি সরজমিনে এসে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এলাকার যুবক খোরশেদ আলম (৩০) বলেন, বুধবার সকাল থেকে এলাকার কৃষি ফার্ম বাজারে ১০ টাকা কেজি দরের চাউল বিতরণ করছিল ডিলার। এসময় আমরা কয়েক বন্ধু মিলে বাজারের পাশে কথা বলছিলাম। উপকারভোগিরা চাউল নিয়ে যাওয়ার সময় কম পাওয়ার অভিযোগ করলে সেটি আমরা পরীক্ষা করে প্রতি বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি করে কম পাই। পাশাপাশি প্রতিটি বস্তার জন্য ১০ টাকা করে নেওয়ার কথা জানতে পারি। বিষয়টি আমরা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানালে তিনি এসে সরেজমিনে দেখে এর সত্যতা পান। বিষয়টি দুঃখজন হওয়ায় ওই ডিলারের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কর্মসূচির ডিলার মজিবুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি খাদ্যগুদাম থেকে যেভাবে ৩০ কেজির বস্তা সরবরাহ পেয়েছি সেভাবে বিতরণ করেছি। বস্তার জন্য কোন টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার অধীনে ৫০০ কার্ড রয়েছে বলে জানান এসময়।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোফ্ফাসেল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শণ করে ওজনে কম দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। ওই ডিলালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ