বিনোদন লাইফ স্টাইল

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

নিয়ন্ত্রিত ওজন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপানমুক্ত সুস্থ জীবনযাপন ক্যান্সার আক্রান্তের হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর হারকে ৫০ শতাংশ প্রতিরোধ করতে পারে বলে  নতুন  এক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। জামা অনকোলজি জার্নালে গত ১৯ মে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
ওই জার্নালেই  গত বছর প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়, অনিয়মিত  ডিএনএ মিউটেশনই বেশিরভাগ কান্সারের কারণ। এই ক্যান্সারগুলো প্রতিরোধ যোগ্য নয় ।
কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখ যায় সুস্থ জীবনযাপন  ক্যান্সার ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে পারে । ক্যান্সার রোগটির একটি বড় কারণ, আমাদের  পারিপার্শ্বিক পরিবেশ । কিন্তু এই পরিবেশগত  কারণকেও  আমরা জয় করতে পারি যদি আমাদের জীবনযাপন স্বাস্থ্যকর হয়। এই মতের পক্ষে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের গবেষক ড. মিংয়াং সং এবং  হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এডওয়ার্ড জিওভানুচ্চি  তাদের গবেষণাপত্রে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

 

গবেষণা পরিচালনার জন্য সং এবং জিওভানুচ্চি  ১ লাখ ৩৬ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক শাদা নারী ও পুরুষকে নিয়ে কাজ করেন যাদের সকলেই ছিল তালিকাভুক্ত নার্স অথবা স্বাস্থ্যকর্মী। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের কে দুইটি দলে ভাগ করে দেন  যাদের মধ্যে :
প্রথম দল ছিল কম ঝুঁকিপূর্ণ , কারণ তারা প্রত্যেকে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করে।
দ্বিতীয় দল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ , কারণ তারা সুস্থ জীবন যাপন করে না।

যারা ধূমপান করে না, কখনো মদ্য পান করে না কিংবা করলেও দিনে একবার অথবা আর কম মদ্যপায়ী নারী  এবং দিনে ২বার অথবা তার ও কম মদ্যপায়ী পুরুষ, যাদের বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২৭.৫ এর মধ্যে, যারা সপ্তাহে ন্যুনতম ১৫০ মিনিট পরিমিত ব্যায়াম করে অথবা ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করে  তাদের জীবন যাপনকে সুস্থ জীবন যাপন বলে গবেষকরা সংজ্ঞায়িত করেন।

 

গবেষণা চলাকালে তারা  উল্লেখ করেন যে কম ঝুঁকিপূর্ণ দলের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দলের নারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৪৮ শতাংশের ক্যান্সারে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে । পুরুষদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৪৪ শতাংশের ক্যান্সারে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যই  স্বাস্থ্যকর্মী , স্বভাবতই স্বাস্থ্যকর্মীরা  সাধারণ মানুষের চেয়ে অধিক স্বাস্থ্য সচেতন হয় । যদি গবেষণাটি পূর্ণবয়স্ক সাধারণ শাদা চামড়ার মানুষদের ওপর চালান হতো তবে সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে  কান্সারের আক্রমণ যে ৪০ – ৭০ শতাংশ প্রতিরোধ করা যায়  তা সুস্পষ্ট ভাবেই বোঝা যেত  বলে তারা মনে করেন ।
তবে গবেষকরা উল্লেখ করেন, এই রিপোর্ট শুধু শাদা চামড়ার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যই প্রযোজ্য। অন্য কোনও জাতিগোষ্ঠীর ওপর যদি এই  জরিপ চালান হয় তবে ভিন্ন  ফলও আসতে পারে। কিন্তু সুস্থ জীবন যাপনের সকল  শর্ত যদি মেনে চলা হয়  তবে যে কোনও জাতি /বর্ণের  মানুষের ক্ষেত্রেও ক্যান্সার ঝুঁকি কমে আসবে।

 

জার্নালের আনুষঙ্গিক সম্পাদনায় ভিন্ন দুই জন গবেষক গতবছরে প্রকাশিত একটি রিসার্চে উল্লেখ করেন যে , “ক্যান্সার  প্রতিরোধযোগ্য রোগ “।

সামাজিকভাবে প্রচলিত ক্যান্সার বিষয়ক সকল ধ্যানধারণার ঊর্ধ্বে গিয়ে ক্যান্সার ঝুঁকি প্রতিরোধ করারও যে  সুযোগ আছে, তা বাস্তবায়ন করে ক্যান্সারকে জয় করা সম্ভব বলে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি  স্কুলের মেডিসিন বিভাগের জনস্বাস্থ্য গবেষক ড. গ্রাহাম এ কোল্ডিজ ও সিওভান সুটক্লিফ মনে করেন।
“এই সুযোগ লুফে নিয়ে জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তন করে কান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে  আমরা  ক্যান্সার মুক্ত জীবনযাপন করতে পারি ” বলে তারা উল্লেখ করেন।

ভিডিওঃ অ্যামাজন শুরু করল ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য ডেলিভারি করা (ভিডিওসহ)

Add Comment

Click here to post a comment