খুলনা জাতীয় সংসদ নির্বাচন পজেটিভ বাংলাদেশ স্লাইডার

নির্বাচনে ১১ বার হেরেও ভোট চান ৭২ বছর বয়সী এই প্রাক্তন শিক্ষক

জুমবাংলা ডেস্ক : বয়সের ভারে খুঁড়িয়ে চলেন। ১১ বার নির্বাচনের অংশ নিয়ে হেরেছেন। তবুও ৭২ বছর বয়সী এক প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক স্বপ্ন দেখেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অর্থ বা ক্ষমতার কারণে নয়, সামাজিক পরিবর্তন এবং কুষ্টিয়ার মিরপুরের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করাকেই নিজের অভীষ্ট লক্ষ্য বানিয়েছেন তিনি।

উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছেলে মারফত আলী মাস্টার ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে জয়ী হতে পারেননি একবারও। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছেন। বারবার হারলেও একাত্তরের এই মুক্তিযোদ্ধা স্বপ্ন দেখেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মারফত আলী বেঙ্গল ন্যাশনাল কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দল নিবন্ধন না পাওয়ায় তিনি বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হয়ে হারিকেন প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন।

ছাত্রজীবনেই ১৯৬২ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মারফত আলী। ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭০ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মারফত আলী মাস্টার বলেন, আমি নির্বাচনে না জিতলেও তরুণ প্রজন্মের কাছে একটা শিক্ষা দিতে চাই। যাতে তারা আগামীতে নেতৃত্ব দিতে পারে। শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার এবং সামাজিক একটা পরিবর্তন চাই। মিরপুরের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। অন্য কোনও কারণ নেই। আমি মূলত এমপি হতে চাই না। চাই ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করতে। এ জন্য যত দিন বাঁচব, নির্বাচনে অংশ নিয়ে যাব।

মারফত আলী জানান, মিরপুর-ভেড়ামার উপজেলা নিয়ে কুষ্টিয়া-২ সংসদীয় আসন। এই আসনে বেশি ভোট মিরপুর উপজেলায়। তবে এই এলাকার মানুষেরা ভেড়ামারার মানুষের চেয়ে অবহেলিত। নির্বাচনে নেতৃত্বের অভাবে মিরপুরের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, আমার জীবনের একটাই লক্ষ্য এই মিরপুরের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা।

অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মারফত আলী বলেন, সর্বপ্রথম ইনুর দলের (জাসদ) হয়ে ১৯৮০ সালে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খেজুরগাছ প্রতীকে অংশগ্রহণ করি। সে সময় মাত্র ২৬ ভোটে পরাজিত হই। তার পরে প্রতিজ্ঞা করি যতদিন বাঁচব নির্বাচন করে যাব। তারপর প্রথম ১৯৮৬ সালে ১৫ দলীয় জোটের হয়ে মাছ মার্কা প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সে সময় ১৩ হাজার ভোট পাই। ১৯৮৮ এবং ১৯৯১ সালে দুই বারই জাসদের (শাজাহান সিরাজ) হয়ে মাছ মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে জনতা পার্টি (আতাউল গনি ওসমানী) থেকে হরিণ মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করি।

‘এরপর ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে কোনো দলের না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করি। এর পর চলে যাই মিরপুর পৌর এলাকার খন্দকবাড়ীয়ায়। সেখানে জমি কিনে বসবাস শুরু করি। পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২০১০ সালে পৌর নির্বাচনে তালা-চাবি মার্কায় অংশ নিই। তারপর ২০১০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিয়া পাখি মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করি। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে জাসদ রব গ্রুপের তারা মার্কা প্রতীকে অংশ নিয়েছিলাম। পরে অর্থের অভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম’, যোগ করেন তিনি।

 

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড