মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

নির্বাচনী আইনের কঠোর প্রয়োগ কাম্য-হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

একটি জাতি, একটি সংগ্রাম অতঃপর একটি স্বাধীন দেশের অভ্যুদয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত হবে এটাই ছিল আমাদের জাতীয় দাবি।

হতাশার কথা হলো, রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের এই অধিকারগুলো সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কাজ করে সেগুলো আজ একেবারেই অকেজো/নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তো আজ স্বাধীন মতপ্রকাশসহ ভোটাধিকার প্রয়োগ, মুক্ত গণমাধ্যম, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই এ বিষয়গুলো মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৪৫ বছরের ইতিহাসে রাজনৈতিক শাসক বা সামরিক শাসক কেউই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করেননি। ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যত আলোর দেখা মিললেও অতিঅল্প দিনেই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। অথচ আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারতে বহুধাবিভক্ত সমাজ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই তারা উল্লিখিত বিষয়গুলো সাফল্যের সঙ্গে মীমাংসা করতে পেরেছে। তাই তো সেখানে বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্থা, গণতন্ত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। যত সমস্যা আমাদের এবং তা নিরসনে কেউ উত্তম হতে চায় না। মনে হয় সবাই এ ক্ষেত্রে অধমের অবস্থানেই থাকতে বেশি আগ্রহী। ক্ষমতার দম্ভ ও প্রতিহিংসা আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। ভালোকে গ্রহণ করা আর মন্দকে বর্জন করার সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে আমাদের অবস্থান। একটি ধারাবাহিক প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি আজ আমাদের গণতন্ত্রকে মহাবিপদে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংবিধানে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর এই সংকটটি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। অথচ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ নিজেও আন্দোলন-

সংগ্রাম, সংসদ বর্জন ও সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। তাই ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেই ক্ষান্ত হননি। বরং সংসদ ও সংসদ সদস্যদের পদমর্যাদা বহাল রেখে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে; যা সাংবিধানিকভাবে একনায়কতন্ত্রের পথকে আরও সুগম করেছে। যে কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে সরকারকে দাবি মানাতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জোটের বাইরে থাকা আরও বেশকিছু দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। প্রায় একতরফা নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গণতান্ত্রিক বিশ্ব বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তিনি আর সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। বলা বাহুল্য, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, তত্পরবর্তী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-২০১৫, পৌরসভা নির্বাচন-২০১৫ এবং চলতি বছরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্ট তাড়িয়ে দেওয়া, বিরোধী সমর্থকদের কেন্দ্রে আসতে না দেওয়া ইত্যাকার অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশের জয় নিশ্চিত করা হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রথম পর্যায়ে এবার স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দলীয় প্রতীকে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ। ফলে এসব নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপি, কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাসের মাত্রা ছিল চরম ও বেপরোয়া। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন; যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সব নির্বাচনের সামগ্রিক সহিংসতার হিসাব থেকে অনেক গুণ বেশি। এসব কারণে আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে যে জেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে সরকারি দল ছাড়া আর কোনো দল অংশগ্রহণ করছে না। জেলা পরিষদের এ নির্বাচনেও একই কায়দায় জাতীয় সংসদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকারি দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। আমি যখন এই লেখা লিখছি তখন পর্যন্ত ৬১ জেলার মধ্যে ৩৫টিতে সরকারি দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে এখন এ প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে যে, আমরা আইয়ুব শাসনামলের মৌলিক গণতন্ত্রে ফিরে যাচ্ছি কিনা। এই নির্বাচনের গায়েও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো একদলীয় ও একতরফার তকমা লেগে গেল। আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালে গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রতিটি নির্বাচনে সংঘটিত এসব অনিয়ম প্রতিরোধে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমন সরকারের বশংবদ নির্বাচন কমিশন হিসেবেও দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। যে কারণে দেশের রাজনৈতিক দল শুধু নয়, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আজ স্বচ্ছ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলে আসছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা আর ৫ জানুয়ারির মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না। তার এ কথার সূত্র ধরে বলতে চাই, সত্যি যদি তিনি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন না চান তাহলে সামগ্রিক অর্থে নষ্ট হয়ে যাওয়া বর্তমান এই নির্বাচন পদ্ধতি ও গণতন্ত্রের প্রথম নিয়ামক নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলা আশু প্রয়োজন। এ বিষয়ে ১৮ নভেম্বর বিএনপি ও জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ১৩ দফার প্রস্তাব দিয়েছেন তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বস্তুত তিনি তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ, প্রাজ্ঞ মানুষের সমন্বয়ে একটা নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া কার্যত একটা স্বাধীন, শক্তিশালী ও দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের উপায় বের করার দরজা উন্মুক্ত করেছেন। কিন্তু তিনি বলেননি কমিশন তার পক্ষের লোক নিয়ে গঠিত হতে হবে বা এটাই স্বতঃসিদ্ধ। সার্বিক নির্বাচন পদ্ধতির স্বার্থে এর চেয়ে আরও স্বাধীন, শক্তিশালী, আরও দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে যদি সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারে তাহলে তা সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন। তাই শুধু বিরোধিতার নামে বিরোধিতা নয়, বরং যে কোনো মহৎ কাজ ও উদ্যোগকে আমাদের সবার স্বাগত জানানো উচিত। সবার সাজেশন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গড়ে তোলার মানসিকতা প্রদর্শন করা উচিত। ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত ধারণা ও প্রস্তাব প্রথমে আওয়ামী লীগই জাতির সামনে উত্থাপন করেছিল এবং তখনকার ক্ষমতাসীন বিএনপি সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এটা গণতন্ত্রের একটা আর্ট। তদুপরি অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। এ হিসেবে ১৮ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সঙ্গীয় ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা ব্যক্ত করেন বেগম খালেদা জিয়া এবং তিনি তার ১৩ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরেন। এ ছাড়া বিদ্যমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির যথাযথ ভূমিকাও প্রত্যাশা করে বিএনপি। আমরা জানি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের জন্য অনেক উন্নয়ন কাজ করেছে এবং ক্রমাগত করে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে এর পাশাপাশি মানুষ তার ভোটাধিকার থেকে ছিটকে পড়েছে। আর এই একটি কারণেই আমজনতা আজ দারুণভাবে ক্ষুব্ধ। যে কাজটি বিগত দিনে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারও করেছিল। কিন্তু পতনের হাত থেকে তিনি রেহাই পাননি। তাই প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগকে এই মৌলিক উপলব্ধির জায়গায় যাওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করেন। তাহলেই কেবল সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথ অনুসরণের মাধ্যমে যে উন্নয়ন করা যায়, যা আমরা পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো ও ভারতে দেখতে পাই সেই গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হব। কেননা গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অন্যের পরিপূরক, আলাদা কোনো সত্তা নয়। আর জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে। গণতন্ত্রে ছলচাতুরী জনগণ কখনই পছন্দ করে না। বরং গণতন্ত্রের চলার পথে যারা এগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবেক জাগ্রত করে দেখুন, আমাদের দেশের ইতিহাস কিন্তু তাই বলে। যখন যে দল জনগণের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছে তার যথাযথ পুরস্কারও তারা পেয়েছে। বিরোধী মতের বক্তব্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের শাসনকাল যদি নির্বিঘ্ন হতো তাহলে আজ তাদের গায়ে অনির্বাচিত সরকারের কালিমা লাগাতে হতো না। বরং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ঠিকই অংশগ্রহণ করত। প্রকৃতপক্ষে জোর করে বা যে কোনো উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা কারও জন্য কখনই শুভফল বয়ে আনেনি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ক্ষমতায় গেলে এ দেশের রাজনীতিবিদরা সে কথা বেমালুম ভুলে যান। কেননা ক্ষমতায় থাকাকালে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন-পীড়নে উদ্যত হন; ভুলে যান একসময় বিরোধী আসনে তাদেরও যেতে হতে পারে। আমাদের বড় দুই দলের ভাবা উচিত, দুই দলেরই কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী কারও অংশে কম নয়। নির্বাচনী মাঠে তাদের শক্তি-সামর্থ্যও প্রায় সমান। কিন্তু শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের ফলে আসল বা প্রকৃত নির্বাচনী ফলাফল তারা ঘরে তুলতে পারে না। তাই শুধু নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করলে হবে না; একই সঙ্গে নির্বাচনী কাজে নিযু্ক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার মেকানিজম তৈরি করতে হবে। এই মেকানিজম তৈরি করা স্বাধীন-স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন তৈরির চেয়েও বড় শক্ত কাজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দলবাজ বা দলদাস হয়ে গেলে নির্বাচনে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করা যায় না। তখন জনসমর্থন থাকলেও ফল অনুকূলে আসে না। তাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে নিরপেক্ষতার সঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগের ব্যবস্থা যদি করা না যায় তাহলে আগেকার নির্বাচনগুলোর মতো অনিয়ম ও সন্ত্রাস-সহিংসতা আরও বাড়বে বই কমবে না। জাতি আজ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মতো কোনো নির্বাচন কমিশন দেখতে চায় না। এই নির্বাচন কমিশন এতটা অদক্ষ ও অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে যে, আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিমকোর্টের কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য সদস্যদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অতীতে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। অতএব, এই নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে অহংকারের কিছু নেই।পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের অবসানকল্পে এবং সব মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যারা সরকারের আজ্ঞাবহ থেকে মুক্ত হয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে। আর তা দিতে হলে নির্বাচনের সময় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী রক্ষাকারী বাহিনী যাতে নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে সমর্থ হয় তার বিধিবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না। একটি ঘোড়া শুধু দ্রুত ছুটলেই তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না বরং সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে ঘোড়াটিকে ছোটাতে পারলেই সে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন আইনের কঠোর প্রয়োগের নিশ্চয়তা বিধানকল্পে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। তাহলেই কেবল গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সবাই শরিক হতে পারবে। নির্বাচনের সঠিক ও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন হবে। মৃতপ্রায় গণতন্ত্রের খোলস ছেড়ে জীবিত হবে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। ফলত ন্যায় প্রতিষ্ঠার আলোকে সুসভ্য সমাজ ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়।

লেখক : চেয়ারম্যান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

ই-মেইল : kirondebate@gmail.com

Add Comment

Click here to post a comment